• আন্তর্জাতিক
  • সিরিয়ায় তীব্র সংঘর্ষ: কারফিউ জারি, আলেপ্পো ছাড়ছে ৪৬ হাজারের বেশি বাসিন্দা

সিরিয়ায় তীব্র সংঘর্ষ: কারফিউ জারি, আলেপ্পো ছাড়ছে ৪৬ হাজারের বেশি বাসিন্দা

সিরিয়ার আলেপ্পোয় সরকারি সেনা ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। এর ফলে শহরের একাধিক এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ শহর ছেড়ে পালাচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
সিরিয়ায় তীব্র সংঘর্ষ: কারফিউ জারি, আলেপ্পো ছাড়ছে ৪৬ হাজারের বেশি বাসিন্দা

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোয় সরকারি সেনাবাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর মধ্যে টানা তৃতীয় দিনের মতো তীব্র সংঘর্ষ চলছে। বৃহস্পতিবার আলেপ্পোর শেখ মাকসুদ, আশরাফিয়াহ ও বানি জায়েদ এলাকায় কারফিউ জারি করেছে সিরীয় সেনাবাহিনী। সংঘর্ষের কারণে এখন পর্যন্ত ৪৬ হাজারের বেশি মানুষ ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

আলেপ্পোয় ভয়াবহ পরিস্থিতি

সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোয় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সরকারি সেনাবাহিনী এসডিএফের অবস্থান লক্ষ্য করে 'নির্দিষ্ট সামরিক অভিযান' পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা থেকে এসব এলাকায় কারফিউ কার্যকর করা হয়। সামরিক অভিযান শুরুর আগেই বহু মানুষ এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করছে। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৯ জন নিহত এবং ৫৭ জন আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বাস্তুচ্যুতির চিত্র

সামাজিকবিষয়ক অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে ৪৬ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পালিয়ে যাওয়া মানুষজন মানবিক করিডোর ব্যবহার করে হেঁটে শহর ছাড়ছেন, সঙ্গে নিতে পারছেন শুধু প্রয়োজনীয় সামান্য জিনিসপত্র। কিছু পরিবারকে বাসে করেও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও সরকার বেসামরিক নাগরিকদের মসজিদ ও স্কুলে আশ্রয় নিতে বললেও সেগুলোতে পর্যাপ্ত সক্ষমতা নেই। অনেকে উত্তর দিকে আফরিন অঞ্চলের দিকে চলে যাচ্ছেন।

৩৮ বছর বয়সী বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা আহমেদ এএফপিকে বলেন, “আমরা সংঘর্ষ থেকে পালিয়েছি। কোথায় যাব জানি না। ১৪ বছরের যুদ্ধ—এটা কি যথেষ্ট নয়?” আরেক বাসিন্দা আম্মার রাজি বলেন, “আমার ছয় সন্তান। কঠিন পরিস্থিতির কারণে আমাদের চলে যেতে হয়েছে। ফিরতে পারব কি না জানি না।”

সেনাবাহিনী ও এসডিএফের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সিরীয় সেনাবাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের এসডিএফ অবস্থান থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, পালিয়ে যাওয়া মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছে এবং এসডিএফকে সতর্ক করে এলাকা ছাড়তে চাওয়া বেসামরিকদের ওপর হামলা না চালানোর নির্দেশ দিয়েছে।

অন্যদিকে, এসডিএফের মিডিয়া অফিস এই সংঘর্ষের মানবিক পরিণতির দায় সিরীয় সরকারের ওপর চাপিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান কৌশল অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। এসডিএফ সিরীয় সেনাবাহিনীর ব্যাপক সামরিক মোতায়েনকে 'বিপজ্জনক উত্তেজনার ইঙ্গিত' বলে উল্লেখ করেছে এবং বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

স্কুল-বিমানবন্দর বন্ধ

বুধবার সিরীয় সেনাবাহিনী শেখ মাকসুদ ও আশরাফিয়াহ এলাকায় এসডিএফের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার পর থেকে শহরের স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি দপ্তর বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আলেপ্পো বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মার্চ মাসে এসডিএফকে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করার চুক্তি হয়েছিল, যা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ার পরই দুই পক্ষের মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ।

Tags: middle east conflict curfew syria displacement aleppo sdf syrian army