ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন সোমালিল্যান্ডের ক্ষমতাসীন ওয়াদ্দানি পার্টির চেয়ারম্যান হারসি আলী হাজি হাসান। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে সোমালিল্যান্ডকে উপেক্ষা করায় তারা বাধ্য হয়েই ইসরায়েলের দিকে ঝুঁকেছে। বুধবার (০৭ জানুয়ারি) আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঐতিহাসিক সফর
হারসি আলী হাজি হাসানের এই মন্তব্য আসে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার-এর হারগেইসা সফরের পর। চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এই সফর ছিল সোমালিল্যান্ডের তথাকথিত রাজধানীতে কোনো ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম সফর। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়। এই স্বীকৃতির পরই সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ আরও জোরালো হয়।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য কোনো বিকল্প নেই
সোমালিল্যান্ডের ওই নেতা বলেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া তাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন। তাঁর হাতে কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “যে কোনো দেশ যদি আমাদের অস্তিত্বের অধিকার স্বীকার করে, তাকে স্বাগত জানানো ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই।” তিনি আরও জানান, “আমরা ৩৪ বছর ধরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আছি। আরব লীগের প্রত্যাখ্যান আমাদের কাছে কোনো বিষয় নয়। তারা কখনোই আমাদের সদস্য করেনি, আর আরব দেশগুলো থেকেও আমরা কোনো মনোযোগ পাইনি।”
তীব্র কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পালটা যুক্তি
ইসরায়েলি মন্ত্রীর সফর ঘিরে তীব্র কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সোমালিল্যান্ডকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করা কেন্দ্রীয় সোমালি সরকার এই পদক্ষেপকে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। একই সঙ্গে আরব লীগ ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) 'বিচ্ছিন্নতাবাদী বাস্তবতা' প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে। তবে এই সমালোচনাকে 'ভণ্ডামি' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন হাসান। তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু সোমালিল্যান্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, মিসর, তুরস্ক, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বহু আরব ও মুসলিম দেশই ইসরায়েলের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।