• রাজনীতি
  • পেশাদার ‘কন্ট্রাক্ট কিলারের’ নিশানায় মুসাব্বির? তেজতুরি বাজার হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত

পেশাদার ‘কন্ট্রাক্ট কিলারের’ নিশানায় মুসাব্বির? তেজতুরি বাজার হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
পেশাদার ‘কন্ট্রাক্ট কিলারের’ নিশানায় মুসাব্বির? তেজতুরি বাজার হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত

সিসিটিভি ফুটেজে খুনিদের পালানোর দৃশ্য শনাক্ত; বিচার দাবিতে ১০ জানুয়ারি দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিল স্বেচ্ছাসেবক দল।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ব্যস্ততম পশ্চিম তেজতুরি বাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক ধারণা, এই সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে পেশাদার ‘Contract Killer’ বা ভাড়াটে শুটার ব্যবহার করা হয়েছে। নিছক কোনো তাৎক্ষণিক বিরোধ নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শত্রুতা কিংবা চাঁদাবাজির জেরে এই ‘Target Killing’ মিশন বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

সিসিটিভি ফুটেজ ও খুনিদের পলায়ন কৌশল

গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে যখন গুলি চালানো হয়, তখন পুরো এলাকা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই তদন্তকারীরা আশপাশের ‘CCTV Footage’ সংগ্রহ করে তা নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ শুরু করেন। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ঘাতকরা আগে থেকেই এলাকাটি ‘Rekey’ বা পর্যবেক্ষণ করেছিল।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, মুসাব্বিরকে অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি করে খুনিরা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় রাস্তা পার হয়ে কারওয়ান বাজারের ঘিঞ্জি গলি দিয়ে পালিয়ে যায়। তাদের এই পেশাদার পলায়ন কৌশল দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই মিশনে দক্ষ ভাড়াটে খুনিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তেজগাঁও থানায় পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তদন্তের কেন্দ্রে ‘রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক’ স্বার্থ

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ, ডিবি এবং র‍্যাব সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, “আমরা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছি। বিশেষ করে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে কোনো কোন্দল কিংবা চাঁদাবাজির ‘Conflict of Interest’ এখানে কাজ করেছে কি না, তা আমাদের তদন্তের মূল বিষয়।”

তবে মুসাব্বিরের পরিবারের দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট। নিহতের স্ত্রীর ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক কারণে মুসাব্বিরকে এর আগেও বেশ কয়েকবার হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। দলীয় সহকর্মীদের অভিযোগ, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদপ্রাপ্তি এবং আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহই মুসাব্বিরের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দাফন সম্পন্ন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আল্টিমেটাম

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মুসাব্বিরের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

জানাজা পরবর্তী সমাবেশে স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারের ‘Ultimatum’ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ১০ জানুয়ারি (শনিবার) দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেতারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কর্মীদের এভাবে নির্বিচারে হত্যা করে বিরোধী শক্তিকে দমন করার কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হতে দেওয়া হবে না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চ্যালেঞ্জ

রাজধানীর মতো সুরক্ষিত এলাকায় প্রকাশ্যে একজন রাজনৈতিক নেতাকে ভাড়াটে শুটার দিয়ে হত্যা করায় সাধারণ নাগরিকদের মনেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ভাড়াটে শুটার ব্যবহারের তথ্য সঠিক হয়, তবে এর পেছনে থাকা ‘Mastermind’ বা মূল পরিকল্পনাকারীকে খুঁজে বের করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে ঘাতকদের ‘Digital Footprint’ ট্র্যাকিং করার চেষ্টা চলছে।

Tags: police investigation dhaka crime political violence cctv footage bnp protest extortion musabbir murder contract killer tejgaon news volunteer wing