• আন্তর্জাতিক
  • ‘আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করি না, আমার নৈতিকতাই শেষ কথা’: বিশ্বজুড়ে সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্পের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি

‘আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করি না, আমার নৈতিকতাই শেষ কথা’: বিশ্বজুড়ে সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্পের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
‘আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করি না, আমার নৈতিকতাই শেষ কথা’: বিশ্বজুড়ে সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্পের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি

ভেনেজুয়েলা থেকে মধ্যপ্রাচ্য—ট্রাম্পের ‘একলা চলো’ নীতিতে অস্থির বিশ্বরাজনীতি; আন্তর্জাতিক রীতিনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে কোনো আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা মানতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বরং তার নিজস্ব ‘নৈতিকতা’ এবং ব্যক্তিগত চিন্তাধারাই যেকোনো সামরিক অ্যাকশনের চূড়ান্ত মাপকাঠি বলে দাবি করেছেন তিনি। দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরেই বিশ্বের একাধিক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলা ও বিশেষ সামরিক অভিযান নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি, ২০২৬) এক সাক্ষাৎকারে এমন বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি।

নৈতিকতাই যেখানে চালিকাশক্তি

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—মার্কিন সামরিক ক্ষমতার ওপর আন্তর্জাতিক কোনো সীমানা বা আইনি বাধ্যবাধকতা আছে কি না। এর উত্তরে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “হ্যাঁ, একটি বিষয় আছে—তা হলো আমার নিজের নৈতিকতা এবং আমার নিজস্ব চিন্তাধারা। একমাত্র এটাই আমাকে থামাতে পারে।” ট্রাম্প আরও স্পষ্ট করে বলেন, “আমার আন্তর্জাতিক আইনের (International Law) কোনো প্রয়োজন নেই। আমি মানুষের ক্ষতি করতে চাই না, তবে মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় পিছু হটব না।”

আগ্রাসী রণকৌশল ও অস্থির বিশ্বরাজনীতি

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে এক আমূল পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। ভেনেজুয়েলা, ইয়েমেন, সিরিয়া, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, ইরাক এবং ইরানে দফায় দফায় মার্কিন হামলা ও সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ট্রাম্পের আকস্মিক সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লাতিন আমেরিকায় একটি বড় ধরনের যুদ্ধ বা ‘Military Conflict’ শুরু হওয়ার আশঙ্কা করছেন ভূ-রাজনীতিবিদরা।

আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞায় ভিন্নতা

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি তাত্ত্বিকভাবে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলেন ঠিকই, তবে সেটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে ‘আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞা’ (Definition of International Law) কীভাবে দেওয়া হচ্ছে তার ওপর। তার মতে, গ্লোবাল অর্ডার (Global Order) বজায় রাখার নামে মার্কিন সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে দেওয়া যাবে না। ট্রাম্পের এই ‘একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত’ বা Unilateralism বিশ্বজুড়ে মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

অভ্যন্তরীণ সমালোচনা ও কংগ্রেসের অবস্থান

এদিকে ট্রাম্পের এই আগ্রাসী অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছেন নিজ দলের প্রভাবশালী সিনেটর সুসান কলিন্স। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রচেষ্টা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। কলিন্স বলেন, “মাদুরোকে আটক করার অপারেশনটি ছিল অসাধারণ দক্ষতা ও রণকৌশলের (Strategic Autonomy) এক দৃষ্টান্ত। আমি সেটিকে সমর্থন করি। কিন্তু কংগ্রেসের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন (Congressional Approval) ছাড়া ভেনেজুয়েলা বা গ্রিনল্যান্ডে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা পাঠানো বা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির পক্ষে আমি নই।”

ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির নতুন সংস্করণ আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রচলিত ‘Diplomatic Protocol’ ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। যেখানে বিশ্বনেতারা আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে বিবাদ মীমাংসার কথা বলেন, সেখানে ট্রাম্পের ‘নিজস্ব নৈতিকতা’র তত্ত্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে। ট্রাম্পের এই অবস্থান কেবল ভেনেজুয়েলা সংকট নয়, বরং ভবিষ্যৎ বিশ্ব নিরাপত্তা ও শান্তি রক্ষার ক্ষেত্রে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Tags: international law donald trump white house nicolas maduro venezuela crisis military intervention global politics