• রাজনীতি
  • প্রশাসনের একতরফা পক্ষপাতিত্ব বন্ধের জোরালো দাবি জামায়াতের: অবাধ নির্বাচনের পথে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত

প্রশাসনের একতরফা পক্ষপাতিত্ব বন্ধের জোরালো দাবি জামায়াতের: অবাধ নির্বাচনের পথে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
প্রশাসনের একতরফা পক্ষপাতিত্ব বন্ধের জোরালো দাবি জামায়াতের: অবাধ নির্বাচনের পথে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত

‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে উদ্বেগ; নির্বাচন পরিচালনায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একাধিক সাব-কমিটি গঠন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ সামনে রেখে দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রশাসনের একাংশের নির্দিষ্ট কোনো পক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে প্রধান অন্তরায়। একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই বৈষম্যমূলক আচরণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ‘জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’র এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়।

নির্বাচন পরিচালনায় নতুন সাংগঠনিক তৎপরতা

জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা এটিএম মা’ছুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আসন্ন নির্বাচনের কৌশল নির্ধারণে একাধিক ‘Sub-committee’ বা উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৈঠকের সঞ্চালনা করেন কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আবদুল হালিম। সভায় নির্বাচনী কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন এবং কমিটিতে নতুন দক্ষ সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নিরপেক্ষ প্রশাসনের দাবি ও উদ্বেগের জায়গা

উদ্বোধনী বক্তব্যে মাওলানা এটিএম মা’ছুম প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সফল করতে হলে রাষ্ট্রযন্ত্র ও প্রশাসনকে অবশ্যই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ (Neutral) ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রশাসনের একাংশের একতরফা আচরণ গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।”

বৈঠক শেষে দলটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয় যে, নির্বাচনের ডামাডোল বাজলেও এখনো সব রাজনৈতিক দলের জন্য ‘Level Playing Field’ বা সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়নি। জামায়াত নেতাদের মতে, প্রশাসনের এই ভারসাম্যহীন অবস্থানের কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বকেয়া বিচার

বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াত নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন যে, ওসমান হাদির চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো অধরা রয়ে গেছে। দেশে সন্ত্রাস নির্মূলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ‘Progress’ বা অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার (Illegal Arms Recovery) অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের অভাব এবং নিয়মিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে বলে তারা দাবি করেন।

সন্ত্রাস দমনে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

জামায়াত নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং মাঠ পর্যায়ে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। প্রশাসনের একতরফা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ থেকে সরে এসে সকল দলের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন।

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর এই কঠোর অবস্থান দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনিক সংস্কার ও নির্বাচনী পরিবেশের স্বচ্ছতা নিয়ে দলটির এই দাবিগুলো নির্বাচন কমিশন কীভাবে আমলে নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।