আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের একটি মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ঝড়ের সৃষ্টি করেছে। ‘বিড়ি টেনে নির্বাচনী প্রচার চালালে গুনাহ মাফ হতে পারে’—এমন এক তত্ত্বে নেটিজেনদের সমালোচনার মুখে পড়ার পর এবার নিজের সেই বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও সাফাই দিয়েছেন এই নেতা।
বিতর্কের সূত্রপাত ও ভাইরাল বক্তব্য
গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে (Election Meeting) বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. ফয়জুল হক বলেন, “জীবনে কোনো ইবাদত না করেও কেউ যদি বিড়ি টেনে দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দেয় আর তা আল্লাহ কবুল করেন, তাহলে তার পেছনের সব গুনাহ মাফ হতে পারে।”
তাঁর এই বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ মুহূর্তেই ফেসবুক ও ইউটিউবে ভাইরাল (Viral) হয়ে যায়। নেটিজেনদের অনেকেই ধর্মীয় অনুভূতির সাথে ধূমপান এবং নির্বাচনী প্রচারকে গুলিয়ে ফেলার বিষয়টিকে ‘পলিটিক্যাল স্ট্যান্ড’ হিসেবে সমালোচনা করেন। অনেক বিশ্লেষক একে ‘বিতর্কিত ক্যাম্পেইন’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন।
‘মিসলিড করা হয়েছে’: প্রার্থীর আত্মপক্ষ সমর্থন
সমালোচনার মুখে নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ড. ফয়জুল হক দাবি করেছেন, তাঁর পুরো বক্তব্যকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “একজন সংসদ সদস্য (MP) পদপ্রার্থী হিসেবে আমাকে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মনস্তত্ত্ব বুঝতে হয়। আমাদের সমাজে দাঁড়িওয়ালা পরহেজগার মানুষ যেমন আছেন, তেমনি ধূমপায়ী বা বিড়ি-সিগারেট খান এমন সাধারণ মানুষও আছেন। আমি মূলত তাদের ইনক্লুসিভ (Inclusive) করার চেষ্টা করেছি।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, দোকানে বসে যারা বিড়ি খান, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন যে সেই অবস্থায় থেকেও যদি তারা ভালো কাজের বা একটি আদর্শিক প্রতীকের (দাঁড়িপাল্লা) পক্ষে কথা বলেন, তবে আল্লাহ চাইলে সেই উসিলায় তাদের ক্ষমা করে দিতে পারেন।
আলেমদের উদাহরণ ও ‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস’
নিজের বক্তব্যের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ড. ফয়জুল হক বাংলা প্রবাদের আশ্রয় নেন। তিনি বলেন, “আমাদের আলেমরা ওয়াজ মাহফিলে প্রায়ই বলেন—সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। আমি সেই সূত্র ধরেই বলেছি, ভালো কাজের সাথে যুক্ত হতে হতে একজন মানুষ একসময় পুরোপুরি ভালো হয়ে যেতে পারেন। আমার বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ ভিডিও (Full Video) আমার ফেসবুক পেজে দেওয়া আছে। সেটি দেখলে বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার হবে।”
নির্বাচনী প্রচারণা ও ডিজিটাল নজরদারি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে নির্বাচনের ডিজিটাল ডিসকোর্স (Digital Discourse) অত্যন্ত শক্তিশালী। প্রার্থীদের প্রতিটি কথা এবং শব্দ এখন ‘পাবলিক স্ক্রুটিনি’র আওতায় থাকে। ড. ফয়জুল হকের এই মন্তব্যটি তাঁর ভোটারদের মন জয়ের কৌশল নাকি কোনো অনিচ্ছাকৃত বিচ্যুতি, তা নিয়ে রাজাপুর-কাঁঠালিয়া এলাকায় এখনো আলোচনা চলছে। তবে জামায়াত প্রার্থীর এই বিশেষ ‘ব্যাখ্যা’ তাঁর নির্বাচনী ইমেজে কতটুকু ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।
উল্লেখ্য, ঝালকাঠি-১ আসনে এবারের নির্বাচনী লড়াই বেশ জমে উঠেছে। প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে নিত্যনতুন কৌশল ও বক্তৃতার আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে ড. ফয়জুল হকের এই ‘বিড়ি ও গুনাহ মাফ’ তত্ত্বটি এখন পর্যন্ত এই আসনের অন্যতম আলোচিত টপিকে পরিণত হয়েছে।