• দেশজুড়ে
  • রাজধানীতে এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে চরম নৈরাজ্য: দ্বিগুণ দামে বিকোচ্ছে গ্যাস, দিশেহারা সাধারণ মানুষ

রাজধানীতে এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে চরম নৈরাজ্য: দ্বিগুণ দামে বিকোচ্ছে গ্যাস, দিশেহারা সাধারণ মানুষ

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
রাজধানীতে এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে চরম নৈরাজ্য: দ্বিগুণ দামে বিকোচ্ছে গ্যাস, দিশেহারা সাধারণ মানুষ

সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা নেই বাজারে; সংকটের দোহাই দিয়ে পকেট কাটছে সিন্ডিকেট, অটোগ্যাস সংকটে স্থবির পরিবহন খাত।

রাজধানীর জ্বালানি বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (LPG) সরবরাহ সংকট ও লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে সিলিন্ডার প্রতি দেড় থেকে দ্বিগুণ দাম আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে চলা এই চরম নৈরাজ্যের ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে না পেরে রাজধানীর অনেক এলাকায় মানুষ পুনরায় আদিম আমলের মাটির চুলায় রান্নার কাজে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

আকাশছোঁয়া দাম ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযুদ্ধ

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, যেখানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৩০০ টাকার আশেপাশে হওয়ার কথা, সেখানে খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। কোনো কোনো এলাকায় এর চেয়েও বেশি দাম হাঁকানো হচ্ছে। হুট করে জ্বালানির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মাসিক বাজেটে বিশাল চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যারা পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগহীন এলাকায় বসবাস করেন, তাদের জন্য এই ‘জ্বালানি সংকট’ এক ভয়াবহ অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক শ্রমজীবী মানুষ আক্ষেপ করে বলছেন, আয়ের বড় একটি অংশ যদি কেবল রান্নার গ্যাস কিনতেই ব্যয় হয়ে যায়, তবে সংসার চালানো অসম্ভব।

খুচরা বাজারে হাহাকার: খালি সিলিন্ডারের দীর্ঘ সারি

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকানে গিয়ে দেখা গেছে কেবল খালি সিলিন্ডারের স্তূপ। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, তারা চাহিদামতো গ্যাস পাচ্ছেন না। ডিলার বা পরিবেশকরা সংকটের অজুহাত দেখিয়ে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা নিজেরাই বেশি দামে গ্যাস কিনছেন, তাই সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। Supply Chain-এর এই অব্যবস্থাপনা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুতদারির কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোক্তারা।

অটোগ্যাস সংকটে ধুঁকছে পরিবহন খাত

এলপিজি সিলিন্ডারের পাশাপাশি এর প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (DRU) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন এন্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর নেতারা জানিয়েছেন, বর্তমানে চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে রাজধানীর অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং অনেক পরিবহন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অটোগ্যাস নির্ভর গণপরিবহন সংকটের কারণে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিও চরমে পৌঁছেছে।

তদন্ত কমিটি গঠনসহ ৩ দফা দাবি

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, এই খাতের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে Market Value নিয়ন্ত্রণ করছে। এলপিজি সেক্টরে চলমান এই অস্থিরতা নিরসনে তারা ৩ দফা দাবি পেশ করেছেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—এলপিজি কেন্দ্রিক নৈরাজ্য তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা, অটোগ্যাস স্টেশনে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত এই Distribution Network তদারকি না করলে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। সাধারণ মানুষের দাবি, প্রশাসন যেন দ্রুত বাজার তদারকি (Market Monitoring) জোরদার করে এবং নায্যমূল্যে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করে।

Tags: bangladesh economy price hike energy crisis supply chain fuel crisis consumer rights lpg price cylinder gas dhaka market autogas station