দেশজুড়ে টানা দুই সপ্তাহের তীব্র সহিংস বিক্ষোভের মধ্যে দেশের দুর্বল অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে 'বড় ঘোষণা' দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তার সরকার জনগণের অর্থনৈতিক উদ্বেগ শুনতে প্রস্তুত এবং চলমান সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
অর্থনৈতিক সংকটের মূল কারণ গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানের মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়নের পর এই বিক্ষোভ শুরু হয়। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে মুদ্রার হঠাৎ পতনে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি চরম আকার ধারণ করে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়। শুরুতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ হলেও ধীরে ধীরে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।
সহিংসতা ও বহিরাগত শক্তির অভিযোগ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দিতে ভূমিকা রাখছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হলেও ‘সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা’ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি জনগণকে তথাকথিত ‘দাঙ্গাবাজ ও সন্ত্রাসীদের’ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।
মৃত্যুদণ্ড এবং ইন্টারনেটে নিষেধাজ্ঞা ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল সতর্ক করেছেন, বিক্ষোভে জড়িতদের মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও 'সন্ত্রাসীদের' মধ্যে পার্থক্য টেনে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর মতে, দেশজুড়ে ইতোমধ্যে ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৫১ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জন শিশু। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ১০৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন।
সামরিক পদক্ষেপের কড়া হুঁশিয়ারি সাবেক রেভল্যুশনারি গার্ড কমান্ডার কালিবাফ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেন, তবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও জাহাজগুলো ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।