রবিবার (১১ জানুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যায় ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে একটি আনন্দঘন বিয়েবাড়িতে এই ভয়াবহতা নেমে আসে। স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৯টার দিকে যখন বিয়ের মূল অনুষ্ঠান চলছিল, ঠিক তখনই বিকট শব্দে বিস্ফোরণটি ঘটে। প্রাথমিক রিপোর্টে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিশ্চিত করেছে যে, বিস্ফোরণে বর ও কনেসহ মোট আটজনের প্রাণহানি ঘটেছে।
বিস্ফোরণের প্রকৃতি ও ক্ষয়ক্ষতি বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, অনুষ্ঠানের প্যান্ডেল ও আশেপাশের কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মুহূর্তের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়। ঘটনাস্থল থেকে রক্ত ও ধ্বংসাবশেষের ছবি পাওয়া গেছে, যা ঘটনার ভয়াবহতা প্রমাণ করে। বিস্ফোরণের পর পরই স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে হাত লাগান। তবে ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি সেবা দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তদন্তের গতি প্রকৃতি ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের প্রকৃতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি নিছক কোনো দুর্ঘটনা নাকি কোনো সন্ত্রাসী হামলা, তা নিশ্চিত করতে ফরেনসিক দল কাজ শুরু করেছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এটিকে নাশকতা হিসেবেও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এলাকায় শোকের আবহ এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা ইসলামাবাদসহ পাকিস্তানের নাগরিক সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে নতুন জীবন শুরু করা বর ও কনের এমন করুণ পরিণতিতে স্থানীয়রা স্তম্ভিত। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীসহ বিরোধী দলের নেতারা নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সম্ভাব্য সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে।