• রাজনীতি
  • চ্যালেঞ্জ ছাপিয়ে ভারতের সঙ্গে ‘নতুন ধারার’ সম্পর্কের পথে বিএনপি; গুলশানে তারেক রহমান-প্রণয় ভার্মা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

চ্যালেঞ্জ ছাপিয়ে ভারতের সঙ্গে ‘নতুন ধারার’ সম্পর্কের পথে বিএনপি; গুলশানে তারেক রহমান-প্রণয় ভার্মা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
চ্যালেঞ্জ ছাপিয়ে ভারতের সঙ্গে ‘নতুন ধারার’ সম্পর্কের পথে বিএনপি; গুলশানে তারেক রহমান-প্রণয় ভার্মা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহ; তুরস্ক ও মিশরের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ বিএনপির শীর্ষ নেতার।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া ও ক্ষমতার নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়ে কূটনৈতিক পাড়ায় এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। এরই ধারাবাহিকতায় ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে একটি ‘নতুন ধারার’ (New Era of Relationship) সম্পর্ক তৈরি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বিএনপি। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

বিকেল ৫টার দিকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই আলোচনায় প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার ভিত্তিতে আগামী দিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের জানান, তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে বিএনপির প্রতি আগ্রহ বহুগুণ বেড়েছে। তিনি বলেন, “ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু জটিল চ্যালেঞ্জ (Challenges) রয়ে গেছে, যা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে সেই চ্যালেঞ্জগুলো অ্যাড্রেস করেই আমরা শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে একটি নতুন ধারার সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।”

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বার্তা ও বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি

আলোচনায় উঠে আসে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো সাম্প্রতিক শোকবার্তার প্রসঙ্গটিও। সেখানে দুই দেশের মধ্যে ‘নতুন সম্পর্ক’ তৈরির যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, বিএনপি সেটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তারেক রহমান বৈঠকে স্পষ্ট করেছেন যে, বিএনপি যদি ভবিষ্যতে সরকার গঠন করে, তবে তা হবে একটি ‘Inclusive’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসন। সেখানে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তি হবে ‘Strategic Partnership’ এবং পারস্পরিক উন্নয়ন।

তুরস্ক ও মিশরের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও সাক্ষাৎ

ভারতের হাইকমিশনারের পাশাপাশি এদিন তারেক রহমানের সঙ্গে পৃথকভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্ক ও মিশরের রাষ্ট্রদূতরা। এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলো প্রমাণ করে যে, বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বিএনপির ভবিষ্যৎ ‘Governance’ বা রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আলোচনায় গণতান্ত্রিক উত্তরণ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে বিশদ মতবিনিময় হয়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারেক রহমানের গ্রহণযোগ্যতা

হুমায়ুন কবির আরও জানান, শুধু ভারত বা প্রতিবেশী দেশগুলো নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপীয় দেশগুলোর কূটনীতিকরাও ধারাবাহিকভাবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তিনি বলেন, “এটি মূলত তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের একটি শক্তিশালী স্বীকৃতির প্রতিফলন। আমরা পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গেও এ ধরনের মতবিনিময় সভার আয়োজন করব।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে বিএনপির এই ‘Diplomatic Offensive’ বা কূটনৈতিক তৎপরতা অত্যন্ত সুচিন্তিত। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলানোর যে উদ্যোগ তারেক রহমান নিয়েছেন, তা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিতে পারে।

Tags: tarique rahman bangladesh politics mirza fakhrul security cooperation new relationship gulshan office pranay verma diplomatic meeting bnp india relations turkey egypt ambassadors