আসন্ন নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হতে হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন পরিকল্পনার মাধ্যমে যেখানে ঘাটতি রয়েছে, সেসব ঘাটতি পূরণে কাজ চলমান রয়েছে—বলেছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী।
গণভোট: গণতন্ত্রের নতুন সংজ্ঞা সোমবার (১২ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দেশের বৃহত্তম ফুল উৎসবে গণভোটের প্রচারণা ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, গণভোট একটি অত্যন্ত দুর্লভ সুযোগ। এই সুযোগ বহু শহীদ, আহত ও নিহতের আত্মত্যাগের বিনিময়ে সৃষ্টি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের সামনে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা নতুনভাবে নির্ধারণ করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ রয়েছে। গণতন্ত্র মানে শুধু প্রতি পাঁচ বছর পরপর ভোট দিয়ে নতুন কোনো স্বৈরাচার তৈরি করা নয়।
নেতারা হবেন জনগণের সেবক বিশেষ দূত তার বক্তব্যে আরও বলেন, এই পাঁচ বছরের মধ্যে নেতারা যেন শোষক না হয়ে জনগণের সেবক হতে পারেন, সে লক্ষ্যে একটি কার্যকর কাঠামো বা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ঐকমত্য কমিশনের জুলাই সনদে সেই সিদ্ধান্তগুলোই গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
নির্বাচন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা লুৎফে সিদ্দিকী গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এই নির্বাচন তো হবেই, তবে এই গণভোটের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনগুলো কার অধীনে হবে, তা নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে কি না, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা কেমন হবে এবং বিচার বিভাগের সক্ষমতা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গণভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। অনুষ্ঠানের আগে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অতিথিদের বরণ করে নেওয়া হয়।