• আন্তর্জাতিক
  • চলমান বিক্ষোভে এবার রাজপথে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

চলমান বিক্ষোভে এবার রাজপথে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

দুই সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে চলা সহিংস বিক্ষোভের আবহে এবার সরকারপন্থি সমাবেশে যোগ দিয়ে জনগণের পাশে থাকার বার্তা দিলেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
চলমান বিক্ষোভে এবার রাজপথে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

ইরানে দুই সপ্তাহ ধরে চলা সহিংস বিক্ষোভের মধ্যে এবার রাজপথে নেমেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রাজধানী তেহরানে হাজারো সরকারপন্থি মানুষের এক বিরাট সমাবেশে তিনি অংশ নেন। জাতীয় পতাকা হাতে নাগরিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায় তাকে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি প্রাণঘাতী সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অসন্তোষ সমাধানের অঙ্গীকার করেন।

প্রেসিডেন্টের 'জাতীয় প্রতিরোধ মিছিল' এবং অঙ্গীকার সোমবার (১২ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকারপন্থিদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এসবের ভিডিও প্রচারিত হয়েছে। রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত বিশাল সমাবেশে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান উপস্থিত ছিলেন। তাকে রাস্তায় মিছিলরত মানুষের সঙ্গে হাঁটতে এবং জাতীয় পতাকা হাতে থাকা নাগরিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়।

এর আগে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান দেশবাসীর প্রতি ‘জাতীয় প্রতিরোধ মিছিলে’ অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া প্রাণঘাতী সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান জানাতেই এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অসন্তোষ সমাধানের অঙ্গীকার করেছেন। প্রেসিডেন্ট বলেন, তাঁর সরকার বিক্ষোভকারীদের কথা শুনতে ‘প্রস্তুত’। তবে তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, যেন ‘দাঙ্গাবাজ’ ও ‘সন্ত্রাসীরা’ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।

বিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি বিক্ষোভ শুরুর আগেই প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান দেশের দুর্বল অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তাঁর সরকার জনগণের কথা শুনতে প্রস্তুত এবং চলমান অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী রোববার (১১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দিতে ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান করা হলেও সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি জনগণকে তথাকথিত ‘দাঙ্গাবাজ ও সন্ত্রাসীদের’ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

বিক্ষোভের কারণ ও মাত্রা গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানের মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের পর বিক্ষোভ শুরু হয়। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে হঠাৎ মুদ্রার পতনে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়। শুরুতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ হলেও পরবর্তীতে এসব আন্দোলন সরকারবিরোধী রূপ নেয়। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ সালে মাহসা আমিনির হেফাজতে মৃত্যুর পর যে আন্দোলন হয়েছিল, তার পর থেকে এটিই ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে।

Tags: iran economic crisis masoud pezeshkian iran protest tehran rally national resistance march