আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। এই নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও শঙ্কা যখন তুঙ্গে, তখন ভোটারদের প্রতি বিশেষ এক বার্তা দিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং দিনাজপুর-৬ আসনের মনোনীত প্রার্থী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) হিলি স্থলবন্দর এলাকায় হাকিমপুর উপজেলা শ্রমিক দল আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট (Political Landscape) ও নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেন।
ভোটের অধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন
নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ডা. জাহিদ হোসেন ভোটারদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “যাকে খুশি তাকেই ভোট দেবেন, এটি আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু ভোট দেওয়ার আগে একবার গভীরভাবে মনে রাখবেন—এই দেশ এবং এ দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ কাদের হাতে নিরাপদ। নেতৃত্বের যোগ্য বিচার করেই আপনারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।” তাঁর এই বক্তব্যে জাতীয় নিরাপত্তা (National Security) এবং সুশাসনের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম ও অটল মনোবল
বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ডা. জাহিদ তাঁর আপসহীন সংগ্রামের কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবসময় বলতেন—বিদেশে আমার কোনো ঠিকানা নেই, আমার ঠিকানা আপনারা, এই দেশের মানুষ। শত জেল-জুলুম, অমানবিক কষ্ট এবং রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি কখনো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। এটিই তাঁর অকৃত্রিম দেশপ্রেমের (Patriotism) সবচেয়ে বড় প্রমাণ।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এক সময় যারা তাঁকে নিয়ে কটূক্তি করত এবং প্রশ্ন তুলত তিনি কেন এখনও বেঁচে আছেন, আজ সময়ের আবর্তে তারাই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আল্লাহ যাকে সম্মানিত করেন, দুনিয়ার কোনো শক্তি তাঁকে অসম্মানিত করতে পারে না। দেশনেত্রী আজ সারা দেশের মানুষের হৃদয়ে অবিনশ্বর হয়ে আছেন।”
নির্বাচনী আবহে শ্রমিক দলের ভূমিকা
হাকিমপুর উপজেলা শ্রমিক দল আয়োজিত এই দোয়া মাহফিলে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কেবল ধর্মীয় গাম্ভীর্যই নয়, বরং আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা মনে করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন (Fair Election) নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডা. জাহিদের এই ‘নিরাপদ হাত’ সংক্রান্ত বক্তব্যটি মূলত ভোটারদের মধ্যে একটি মনস্তাত্ত্বিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা, যাতে তাঁরা নির্বাচনের গুরুত্ব এবং প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড বিচার করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। হিলি সীমান্ত এলাকায় এই নির্বাচনী প্রচারণা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি করেছে।