ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোনো ধরনের বৈধ সনদ ছাড়াই নিজেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগে নারায়ণ পাল নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে জেলার কসবা উপজেলার তন্তর বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এক ঝটিকা অভিযান (Raid) চালিয়ে এই দণ্ড প্রদান করে।
ফার্মেসিতে বসত জালিয়াতির আসর
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী জানান, নারায়ণ পাল দীর্ঘদিন ধরে তন্তর বাজারের ‘নয়ন ফার্মেসি’ নামক একটি ওষুধের দোকানে বসে নিজেকে বড় মাপের চিকিৎসক হিসেবে জাহির করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, তিনি রীতিমতো সিরিয়াল মেইনটেইন করে রোগী দেখছেন এবং তাদের ব্যবস্থাপত্রে (Prescription) বিভিন্ন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এন্টিবায়োটিক (Antibiotic) ও জটিল সব ওষুধ লিখে দিচ্ছেন।
স্বীকৃতি ও দণ্ডাদেশ
অভিযান চলাকালীন নারায়ণ পালকে তার চিকিৎসা সংক্রান্ত এমবিবিএস (MBBS), ইন্টার্নশিপ বা কোনো ধরনের প্যারামেডিক্যাল সনদপত্র দেখাতে বলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে, তার এ সংক্রান্ত কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি বা সরকারি অনুমোদন নেই। কেবল অভিজ্ঞতার দোহাই দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা (Fraud) করে আসছিলেন।
মিথ্যা পরিচয় ও টাইটেল ব্যবহার করে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরির দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে তাকে চূড়ান্ত সতর্কতা প্রদান করা হয়েছে।
জনস্বার্থে কঠোর অবস্থান
সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী বলেন, “মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার কোনো অধিকার কারও নেই। কোনো ডিগ্রি ছাড়াই এন্টিবায়োটিকের মতো সেনসিটিভ ওষুধ লিখে দিয়ে তিনি জনস্বাস্থ্যকে চরম হুমকির মুখে ফেলছিলেন। সাধারণ মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় আমাদের এই ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রান্তিক পর্যায়ের ফার্মেসিগুলোতে এ ধরনের ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি অত্যন্ত জরুরি। আজকের এই জরিমানা (Fine) অন্যান্য ভুয়া চিকিৎসকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।