নতুন বছরে নতুন ভেন্যুতে গড়ালেও ভারতীয় ওপেন ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের পরিবেশ নিয়ে সমালোচনা থামছে না। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ২০ নম্বরে থাকা ডেনমার্কের তারকা শাটলার মিয়া ব্লিখফেল্ট দিল্লির ইন্দিরা গান্ধি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের 'নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর' পরিবেশ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বর্ণনা 'ইন্ডিয়া ওপেন সুপার ৭৫০' টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্লিখফেল্ট তার ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, খেলোয়াড়দের জন্য কোর্টের আশপাশের পরিস্থিতি 'নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর' রয়েছে। ভেন্যুতে খেলা শুরুর আগে তিনি দেখেন আশপাশে পাখি উড়ছে এবং পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন-এলোমেলো হয়ে আছে। ডেনিশ এই তারকা আরও আশা করেছিলেন, অন্যান্য হলের তুলনায় নতুন এই ভেন্যুটির কন্ডিশন ভালো হবে।
তীব্র ঠান্ডা ও অন্য শাটলারদের উদ্বেগ ব্লিখফেল্টের প্রধান অভিযোগের মধ্যে একটি ছিল ভেন্যুর অসহনীয় ঠান্ডা। দিল্লিতে বর্তমানে তাপমাত্রা তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যাচ্ছে। এমন কনকনে ঠান্ডায় ওয়ার্ম-আপ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা দ্রুতগতির খেলার জন্য আদর্শ প্রস্তুতি নয়। তিনি আয়োজক ও ব্যাডমিন্টন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশনের (বিডব্লিউএফ) হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেছেন, 'এটা একটি পেশাদার খেলা। এ ধরনের পরিবেশে অনেক ক্রীড়াবিদই খেলতে চাইবে না।'
কেবল ব্লিখফেল্টই নন, কানাডার শীর্ষ শাটলার মিশেল লিও এবং থাইল্যান্ডের সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন রাচানক ইন্তাননও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, স্টেডিয়াম বড় হওয়ায় বাতাসের প্রবাহ বেশি এবং হিটার (Heater) ব্যবহার করে দ্রুত পরিবেশ আরামদায়ক করা প্রয়োজন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জবাব তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (বিএআই) সচিব সঞ্জয় মিশ্র। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, মাত্র একজন খেলোয়াড়েরই সমস্যা হচ্ছে, যখন অন্যান্য প্রতিযোগী এখানকার সুযোগ-সুবিধার প্রশংসা করছেন। তিনি আরও বলেন, আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখতে তারা হিটার ব্যবহার করছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, চলতি বছরের আগস্টে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপসের জন্য প্রস্তুত হতেই এই টুর্নামেন্ট ভেন্যুতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, এবং যেকোনো ছোটখাটো সমস্যা তারা গুরুত্বের সঙ্গে সমাধান করছেন।