নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশি পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টার সময় এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার সময় কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে তাকে আটক করা হয়।
জালিয়াতির কৌশল আবেদন করার সময় ওই যুবক নিজেকে মো. জামাল শেখ নামে পরিচয় দেন এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বরও জমা দেন। নথি অনুযায়ী, তার পিতার নাম মো. মুন্নু শেখ, মাতার নাম রুনা বেগম, জন্ম তারিখ ২২ জুন ২০০২ এবং ঠিকানা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ভূবশী, ডুবশী গ্রাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
যেভাবে ধরা পড়লো জালিয়াতি পাসপোর্টের কাগজপত্র যাচাইয়ের একপর্যায়ে আবেদনকারীর চেহারার সাথে জমা দেওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবির বড় ধরনের অমিল দেখতে পান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পরবর্তীতে বিস্তারিত অনুসন্ধানে রোহিঙ্গা ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডেটাবেসের সাথে তার আঙ্গুলের ছাপ মেলানো হলে যুবকের আসল পরিচয় উদ্ঘাটিত হয়।
আসল পরিচয় প্রকাশ রোহিঙ্গা পরিচয়পত্র অনুযায়ী, আটক যুবকের প্রকৃত নাম রাইয়াস। তার পিতার নাম মো. আইয়ুব এবং জন্ম তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০০১। নথিতে উল্লেখ রয়েছে যে তিনি ২০১৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও পরবর্তী পদক্ষেপ নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক শামীম আহমেদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক যুবক স্বীকার করেছেন যে তিনি রোহিঙ্গা নাগরিক এবং অবৈধভাবে অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ঘটনার পর পরই তাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই জালিয়াতি ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। উপ-পরিচালক আরও যোগ করেন, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত জালিয়াতি রোধে যাচাই প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর করা হয়েছে।