• আন্তর্জাতিক
  • ইরান বিক্ষোভে মালালার সমর্থন: 'ভবিষ্যৎ ঠিক করবে জনগণ, কোনো বিদেশি শক্তি নয়'

ইরান বিক্ষোভে মালালার সমর্থন: 'ভবিষ্যৎ ঠিক করবে জনগণ, কোনো বিদেশি শক্তি নয়'

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের মতে, চলমান এই গণআন্দোলনকে মেয়েদের স্বাধীনতার ওপর চাপানো রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ইরান বিক্ষোভে মালালার সমর্থন: 'ভবিষ্যৎ ঠিক করবে জনগণ, কোনো বিদেশি শক্তি নয়'

ইরানে ভয়াবহ সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের চরম উত্তেজনার মধ্যে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইরানের ভবিষ্যৎ সেখানকার জনগণের নেতৃত্বেই নির্ধারিত হবে, কোনো বিদেশি শক্তি বা দমনকারী শাসনব্যবস্থা দ্বারা নয়।

ইরানে চলমান অস্থিরতা ও মালালার বার্তা দীর্ঘ দুই সপ্তাহ ধরে নজিরবিহীন বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। এই পরিস্থিতিতে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি মঙ্গলবার লিখেছেন, “ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণ, যেখানে ইরানি নারী ও মেয়েদের নেতৃত্ব থাকতে হবে— কোনো বিদেশি শক্তি বা দমনকারী শাসনব্যবস্থা নয়।”

নারীর স্বাধীনতা ও বিক্ষোভের সম্পর্ক মালালা এই বিক্ষোভকে শিক্ষার ক্ষেত্রসহ জনজীবনের সব স্তরে নারী ও মেয়েদের স্বাধীনতার ওপর দীর্ঘকাল ধরে চাপিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধ থেকে আলাদা করে দেখতে চাননি। তিনি বলেন, “সব জায়গার মেয়েদের মতোই ইরানি মেয়েরাও মর্যাদার সঙ্গে জীবন যাপন করতে চান।” এটি স্পষ্টতই দেশটির নারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রতি তাঁর দৃঢ় সমর্থন নির্দেশ করে।

সরকারের বক্তব্য ও হতাহতের সংখ্যা এদিকে, দেশটির চলমান সহিংসতা নিয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ইরানের একজন সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে যে, এই সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

ওই ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের এই মৃত্যুর পেছনে 'সন্ত্রাসীদের' হাত রয়েছে। তবে নিহতদের মধ্যে সাধারণ নাগরিক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান তিনি দেননি।

বিক্ষোভের মূল কারণ মূলত দেশের নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। গত তিন বছরের মধ্যে এটিই ইরানি প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হওয়া সামরিক হামলার পর থেকে ইরান আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে।

Tags: social media women's rights iran protest nobel prize malala yousafzai global tension