ভাড়াটে খুনি ও জামাইয়ের ষড়যন্ত্র
যশোরের বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যা মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (DB Police)। মূল শুটারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে কিলিং মিশনে থাকা শাহীন কাজী (২৫) নামে আরও একজনকে আটকের পর এই তথ্য জানা গেছে। তদন্তে ডিবি জানতে পেরেছে, শ্বশুর আলমগীর হোসেনের বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার জন্যই জামাই আবেদ আলী পরশ ১৫ লাখ টাকা চুক্তিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের মোটিভ: Property and Family Conflict
ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে হত্যার জন্য নিহতের জামাই আবেদ আলী পরশ ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকা চুক্তি করেন।
মোটিভ: হত্যার মূল কারণ হলো—শ্বশুর আলমগীর হোসেনের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ। আর শ্বশুরের অনুপস্থিতিতে তার বিপুল সম্পদের মালিক হবেন পরশ।
পূর্ব পরিকল্পনা: এই লক্ষ্যে এর আগেও একবার হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। এবার যেন লক্ষ্যভ্রষ্ট না হয়, সে কারণে আসামিরা আটঘাট বেঁধে নামে। হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে ঘটনার দিন, ৩ জানুয়ারি বিকেলে শংকরপুর মেডিকেল কলেজের মাঠে ১০-১২ জন মিলে মিটিং করে।
কিলিং মিশনের অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ
পরশ এই কিলিং মিশনের সম্পূর্ণ ১৫ লাখ টাকা খরচ বহন করার অঙ্গীকার করেন।
অগ্রিম অর্থ: প্রথম দিন দেওয়া হবে পাঁচ লাখ টাকা। বিকেলে পরশ মূল শুটার মিশুকের হাতে এক লাখ টাকা এবং একটি পিস্তল তুলে দেন। বাকি চার লাখ টাকা শংকরপুরের প্রিন্সের কাছ থেকে ধার হিসেবে নেওয়ার কথা ছিল।
অস্ত্রের উৎস: অস্ত্রটি পরশের নিজের। কিছুদিনের জন্য অস্ত্রটি সন্ত্রাসী ভাইপো রাকিবকে ধার দেন পরশ। হত্যাকাণ্ডের পর ফের রাকিবের কাছেই চলে যায় অস্ত্রটি।
হত্যাকাণ্ড যেভাবে ঘটানো হয়: ৩ মোটরসাইকেলের মিশন
৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টার দিকে আলমগীর হোসেন মোটরসাইকেল চালিয়ে শংকরপুর বটতলা হয়ে ইসহাক সড়কে ঢুকলে তিন মোটরসাইকেল তার পিছু নেয়।
হামলার মুহূর্ত: পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম মোটরসাইকেলে ছিল অমিত ও শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুক। চলন্ত গাড়ি থেকে মিশুক আলমগীর হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি করেন।
পলায়ন: হামলার পর চারজন দুটি মোটরসাইকেলে দ্রুত গোলপাতা মসজিদের দিকে চলে যায়। আর শাহীন কাজীকে বহন করা তৃতীয় মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থল থেকে ঘুরিয়ে ফের বটতলার দিকে চলে যায়।
শাহীন কাজীর গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়া
মূল শুটার মিশুকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের এসআই অলক কুমার দে সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে লোন অফিসপাড়া থেকে শাহীন কাজীকে আটক করেন। শাহীন কাজী যশোরের আলোচিত জুম্মান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
দোষ স্বীকার: শাহীন মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার জবানবন্দিতে হত্যার বর্ণনা দেন এবং ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
গ্রেপ্তার: এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের জামাই পরশ, সহযোগী সাগর, মূল শুটার মিশুক এবং সর্বশেষ শাহীন কাজী মিলিয়ে মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, বাকি পলাতক আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।