প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর অস্থিরতা আবারও জানান দিল ইন্দোনেশিয়া। দেশটির পূর্ব জাভা প্রদেশে অবস্থিত অন্যতম শক্তিশালী ও সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট সেমেরু (Mount Semeru) বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভোরের দিকে আকস্মিকভাবে জেগে উঠেছে। আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে নির্গত লাভা ও ছাইয়ের মেঘে ছেয়ে গেছে বিশাল এলাকা। স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া দপ্তরের মতে, আগ্নেয়গিরিটি থেকে নির্গত ছাইয়ের স্তম্ভ আকাশের প্রায় ১৬০০ মিটার (প্রায় ১ মাইল) উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছেছে।
ভোর থেকেই তান্ডব: আতঙ্কে জনপদ
রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা ‘আন্তারা নিউজ’ জানিয়েছে, বুধবার ভোরের দিকে যখন অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়, তখন পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। মাউন্ট সেমেরুর এই সক্রিয়তা বর্তমানে বজায় রয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো প্রাণহানি কিংবা ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবুও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ পুরো এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।
৩ কিলোমিটার ‘রেড জোন’: পর্যটকদের প্রবেশ নিষেধ
অগ্ন্যুৎপাতের তীব্রতা বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ মাউন্ট সেমেরুর জ্বালামুখের চারপাশে ৩ কিলোমিটার এলাকাকে ‘Danger Zone’ বা বিপজ্জনক এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই সীমানার মধ্যে সাধারণ মানুষ, পর্যটক এবং দর্শনার্থীদের সব ধরনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয়দের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া আগ্নেয়গিরির সূক্ষ্ম ছাই বা ‘Volcanic Ash’ ফুসফুসে প্রবেশ করতে না পারে।
‘রিং অব ফায়ার’ ও ইন্দোনেশিয়ার ভৌগোলিক ঝুঁকি
ইন্দোনেশিয়া ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকায় অবস্থিত। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘Ring of Fire’-এর ওপর হওয়ায় এখানে টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া বেশি, যা ঘনঘন ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ১৩০টি Active Volcano বা সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। মাউন্ট সেমেরু এবং মাউন্ট মেরাপি এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক বলে বিবেচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাউন্ট সেমেরুর এই অগ্ন্যুৎপাত আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। আকাশে ছড়িয়ে পড়া ১৬০০ মিটারের ছাইয়ের আস্তরণ বিমান চলাচলের ক্ষেত্রেও ‘Aviation Alert’ বা বিমান সতর্কবার্তার কারণ হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার (Evacuation) জন্য উদ্ধারকারী দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।