দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরম ধৈর্য ও সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক বিশেষ পোস্টে তিনি এই দ্ব্যর্থহীন বার্তা প্রদান করেন। জাতীয় জীবনের এই মুহূর্তকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ‘গুরুত্বপূর্ণ বাঁক’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি দেশবাসীকে কোনো ধরনের প্ররোচনায় পা না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
জাতীয় জীবনের এক সংকটময় সন্ধিক্ষণ
ডা. শফিকুর রহমান তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়টি জাতির জন্য এক ঐতিহাসিক ও অতি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। তিনি লিখেন, "বহু ত্যাগ এবং কুরবানির সিঁড়ি বেয়ে প্রিয় সংগঠন ও জাতি মহান আল্লাহ তাআলার একান্ত মেহেরবানিতে এ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে।" দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পর অর্জিত এই অবস্থানকে অর্থবহ করতে হলে আবেগ নয়, বরং প্রজ্ঞা দিয়ে পথ চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
প্রজ্ঞা ও ধৈর্যই বর্তমানের পাথেয়
বক্তব্যে জামায়াত আমির স্পষ্ট করে জানান যে, সংকটকালীন সময়ে নেতৃত্বের বা সাধারণ মানুষের সাধারণ ভুলও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাই তিনি সবাইকে সর্বোচ্চ প্রজ্ঞা (Wisdom) ও ধৈর্যের পরিচয় দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। রাজনৈতিক বা সামাজিক কোনো উসকানিতে প্রলুব্ধ না হয়ে সংযত থাকার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, "এ সময়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ (Responsible Behavior) করতে হবে।"
বিরূপ আচরণ পরিহার ও মানবিক মূল্যবোধ
দেশের বিভিন্ন মহলে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনার মাঝে ডা. শফিকুর রহমান বিশেষভাবে সর্তক করে দিয়ে বলেন, কারও ব্যাপারেই যেন কোনো ধরনের বিরূপ বা নেতিবাচক আচরণ করা না হয়। তিনি মনে করেন, আদর্শিক লড়াইয়ে জয়ী হতে হলে মানবিক গুণাবলি ও শিষ্টাচার বজায় রাখা অপরিহার্য। তিনি বলেন, "আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য— মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন।" ফলে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত আক্রোশ থেকে দূরে থেকে একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি চর্চার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সবশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সংগঠনের প্রতিটি স্তরের জনশক্তি এবং সাধারণ দেশবাসী এই ক্রান্তিকালে চরম সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে, যা একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়তে সহায়ক হবে। তার এই Social Media Post ইতিমধ্যে রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং এটিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।