• রাজনীতি
  • আগামী কয়েক দশক বাংলাদেশ পরিচালনার দিকনির্দেশনা দেবে গণভোট: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

আগামী কয়েক দশক বাংলাদেশ পরিচালনার দিকনির্দেশনা দেবে গণভোট: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
আগামী কয়েক দশক বাংলাদেশ পরিচালনার দিকনির্দেশনা দেবে গণভোট: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

প্রধানমন্ত্রীর সীমাহীন ক্ষমতা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা ও নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, আসন্ন গণভোট কোনো ব্যক্তি বা সরকারের পক্ষে নয়। বরং আগামী কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, সেই দিকনির্দেশনা নির্ধারণের জন্যই এই গণভোটের আয়োজন।

বুধবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে বিভাগের ইমাম সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের মূল লক্ষ্য ও জুলাই জাতীয় সনদ অধ্যাপক আলী রীয়াজ তার বক্তব্যে গণভোটের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, এই আয়োজন দুটি প্রধান দায়িত্বের কারণে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, শহীদ ও নিপীড়িত মানুষের আত্মত্যাগের দায় স্মরণ করা। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উপযুক্ত রাষ্ট্র নির্মাণ করা। তিনি 'জুলাই জাতীয় সনদ' প্রসঙ্গে বলেন, সনদটি ১৪০০ মানুষের রক্ত দিয়ে লেখা হয়েছে এবং এটিই আমাদের গন্তব্য। তিনি স্পষ্ট করেন, এই সনদ অধ্যাপক ইউনূস বা তাঁর সরকার তৈরি করেনি, বরং সমস্ত রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এর দিকনির্দেশনা এসেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সীমাহীন ক্ষমতা নিয়ে সমালোচনা বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সীমাহীনতার কঠোর সমালোচনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতি যেকোনো দণ্ডিত অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু কার্যত এই ক্ষমতার কলকাঠি নাড়েন প্রধানমন্ত্রী। জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছেন যে ভবিষ্যতে ভুক্তভোগী পরিবারের সম্মতি ছাড়া ক্ষমা সম্ভব হবে না। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার কোনো শেষ নেই; তিনি যতবার বিজয়ী হবেন, ততবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশন ও কোটা সংস্কার নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি দাবি করেন, জনগণ ভোট দিতে পারে না, কারণ নির্বাচন কমিশন স্বাধীন নয়। কমিশনের নিয়োগ রাষ্ট্রপতি দিলেও, তা প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই হয়। তিনি কোটা সংস্কারকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন বিষয় না মনে করে বলেন, সরকারি নিয়োগের পুরো ব্যবস্থাটাই সমস্যার এবং বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ চাইলে এই ব্যবস্থা অবশ্যই বদলাতে হবে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্র গঠন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্র গঠনের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ৬ কোটিই ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী। গড় আয়ু অনুসারে তারা প্রত্যেকে আগামী ৪৮ বছর বাঁচবেন। কেমন বাংলাদেশে তারা বাঁচবেন, সেই বাংলাদেশ আমরাই তৈরি করে তাদের হাতে তুলে দেব।

Tags: bnp bangladesh politics election nomination sirajganj-3 khandakar selim jahangir