• আন্তর্জাতিক
  • ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ কতটা বাস্তবসম্মত? ট্রাম্পের হুমকির মুখে বিশ্লেষকরা যা বলছেন

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ কতটা বাস্তবসম্মত? ট্রাম্পের হুমকির মুখে বিশ্লেষকরা যা বলছেন

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ কতটা বাস্তবসম্মত? ট্রাম্পের হুমকির মুখে বিশ্লেষকরা যা বলছেন

বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা বাড়লে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প; তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমেছে।

ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া লোকজনের ওপর সহিংস দমন-পীড়ন চললে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে গত দুই সপ্তাহে বার বার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবারের (আজ) মধ্যেই কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সামরিক সদস্যকে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়ায় সম্ভাব্য হামলা ও ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া নিয়ে আশঙ্কা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। আল-জাজিরার একটি বিশ্লেষণ অনুসারে, ইরানে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কী কী বিকল্প রয়েছে এবং সেগুলো কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

ট্রাম্পের বার্তা ও প্রশাসনের অবস্থান মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যালে' ট্রাম্প সরাসরি ইরানের বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছেন— "সহায়তা পথেই আছে। মিগা!!!" 'মিগা' বলতে 'মেইক ইরান গ্রেট এগেইন' বোঝানো হয়েছে। এর আগে তিনি বলেছিলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সহিংস উপায়ে হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, ইরানের ক্ষেত্রে কূটনীতি ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ হলেও, প্রয়োজনে তিনি সামরিক শক্তি (যেমন আকাশপথে হামলা) ব্যবহার করতে দ্বিধা করবেন না।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি হ্রাস সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরের জুন মাসের তুলনায় বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আঘাত হানার সক্ষমতা অনেক কম। বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডকে ভূমধ্যসাগর থেকে ক্যারিবীয় অঞ্চলে সরিয়ে 'অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ারের' অংশ হিসেবে লাতিন আমেরিকায় মাদক সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে অভিযানে পাঠানো হয়েছে। ফলে রণতরীটিকে পারস্য উপসাগর বা ইরানের উপকূলে ফিরিয়ে আনতে প্রায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

ইরানের নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার ঝুঁকি অস্ট্রেলিয়ার ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাহরাম আকবরজাদেহ আল-জাজিরাকে জানান, ট্রাম্প স্বল্পমেয়াদি ও কম ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পছন্দ করেন। ২০২০ সালে কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে ইরান থেকে অনিবার্য প্রতিক্রিয়া আসবে। তার মতে, খামেনিকে অপসারণ করা হলে আইআরজিসি (IRGC) দেশের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, যা বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্বের চেয়েও ওয়াশিংটনের প্রতি বেশি বৈরী হবে।

স্থল হামলা: বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ইরানে স্থল সেনা পাঠানো 'একেবারে অসম্ভব'। অধ্যাপক আকবরজাদেহ বলেন, ট্রাম্প দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অঙ্গীকারে বিশ্বাসী নন। আফগানিস্তান থেকে সরে আসার উদাহরণ টেনে তিনি জানান, ইরানে স্থল সেনা পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল হবে।

Tags: bnp bangladesh politics election nomination sirajganj-3 khandakar selim jahangir