• দেশজুড়ে
  • আদালত চত্বরে ‘ছাত্রলীগ’ আখ্যা দিয়ে যুবককে মারধর, আইনজীবীদের ধাওয়ায় পালালেন ছাত্রদল নেতা

আদালত চত্বরে ‘ছাত্রলীগ’ আখ্যা দিয়ে যুবককে মারধর, আইনজীবীদের ধাওয়ায় পালালেন ছাত্রদল নেতা

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
আদালত চত্বরে ‘ছাত্রলীগ’ আখ্যা দিয়ে যুবককে মারধর, আইনজীবীদের ধাওয়ায় পালালেন ছাত্রদল নেতা

নারায়ণগঞ্জে যৌতুক মামলায় হাজিরা দিতে আসা সজিবের ওপর হামলা ও অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ; উত্তপ্ত আদালত প্রাঙ্গণ, আইনজীবীদের প্রতিরোধে পিছু হটল ছাত্রদল ক্যাডাররা।

‘মব’ সংস্কৃতির শিকার সাধারণ যুবক?

নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত চত্বরে বুধবার এক নজিরবিহীন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যৌতুক মামলায় হাজিরা দিতে আসা সজিব নামের এক যুবককে ‘নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ’–এর কর্মী আখ্যা দিয়ে নির্মমভাবে মারধর ও তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মহানগর ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী ও ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সাধারণ আইনজীবীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আদালত ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

ঘটনার নেপথ্যে: যৌতুক মামলা না কি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা?

প্রত্যক্ষদর্শী ও আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী সজিব তার স্ত্রীর দায়ের করা একটি Dowry Case বা যৌতুক মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে এসেছিলেন। মামলার কার্যক্রম শেষে বিকেলে তিনি এজলাসের সামনে অবস্থানকালে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক Joint General Secretary মেহেদী হাসান ফারহান একদল অনুসারী নিয়ে সজিবের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। ফারহান ও তার দলবল সজিবকে ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ হিসেবে অভিযুক্ত করে গালিগালাজ করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে তাকে টেনেহেঁচড়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

পারিবারিক কলহ ও আইনি লড়াইয়ের জটিলতা

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাজিব মণ্ডল জানান, এই ঘটনার মূলে রয়েছে একটি জটিল দাম্পত্য কলহ। সজিব এক লাখ টাকা কাবিনে সানু আক্তার শান্তা নামের এক নারীকে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের পর প্রকাশ পায় যে, ওই নারীর এটি পঞ্চম বিয়ে এবং আগের চারটি বিয়ের তথ্য তিনি গোপন করেছিলেন। এই তথ্য ফাঁস হওয়ার পর শুরু হওয়া বিবাদের জেরে সানু আক্তার তার স্বামী সজিবের বিরুদ্ধে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মোট পাঁচটি মামলা দায়ের করেন। অ্যাডভোকেট রাজিব মণ্ডলের অভিযোগ, ‘ছাত্রদল নেতা ফারহান পরিকল্পিতভাবে একটি Mob তৈরি করে সজিবকে অপহরণের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সিনিয়র আইনজীবীরা তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তুললে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।’

আইনজীবীদের প্রতিরোধ ও ছাত্রদল নেতার পলায়ন

আদালত প্রাঙ্গণে একজন বিচারপ্রার্থীর ওপর এমন হামলায় আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আইনপেশার মর্যাদা রক্ষায় আইনজীবীরা একত্রিত হয়ে হামলাকারীদের প্রতিহত করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে সাধারণ আইনজীবীরা যখন ধাওয়া দেন, তখন ফারহান ও তার অনুসারীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। আইনজীবীদের মতে, আদালত চত্বরে এ ধরনের রাজনৈতিক Aggression এবং বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা আইন ও বিচার ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ।

পাল্টা যুক্তি ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা

তবে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান ফারহান। তার দাবি, সজিব নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং তার কাছে এর যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। ফারহান বলেন, ‘তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরাই আমাকে বাধা দেন এবং হেনস্তা করেন। পরে নিজের পরিচয় দিলে তারা আমাকে চলে যেতে দেন।’

আদালত চত্বরে এ ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ আইনজীবীরা। তারা মনে করেন, বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

Tags: student politics bangladesh news political tension chhatra dal mob justice narayanganj court youth attack lawyer chase dowry case court incident