• আন্তর্জাতিক
  • ফাঁসির মঞ্চ থেকে শেষ মুহূর্তে রক্ষা: বিক্ষোভকারী এরফানের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করল ইরান

ফাঁসির মঞ্চ থেকে শেষ মুহূর্তে রক্ষা: বিক্ষোভকারী এরফানের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করল ইরান

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ফাঁসির মঞ্চ থেকে শেষ মুহূর্তে রক্ষা: বিক্ষোভকারী এরফানের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করল ইরান

আন্তর্জাতিক চাপ ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির মুখে নতি স্বীকার তেহরানের? ২৬ বছর বয়সী এরফানের প্রাণদণ্ড স্থগিতের খবরে স্বস্তি বিশ্বজুড়ে।

ইরানের উত্তাল সরকারবিরোধী আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে মৃত্যুর দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিলেন ২৬ বছর বয়সী তরুণ এরফান সোলতানি। তবে শেষ মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রবল চাপ আর মানবাধিকার সংগঠনগুলোর জোরালো আহ্বানে সাড়া দিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত (Stay of Execution) করেছে ইরান সরকার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএন-এর প্রতিবেদনে এরফানের পরিবার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বরাতে এই স্বস্তিদায়ক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

পেশায় পোশাক শ্রমিক এরফান সোলতানি গত ৮ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ইরানের কারাজ শহরের রাস্তায় চলমান বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই মাত্র তিন দিনের সংক্ষিপ্ত বিচারের (Summary Trial) মাধ্যমে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতের এই বিতর্কিত বিচার প্রক্রিয়ায় এরফানের পরিবার কিংবা বন্ধুদের কাউকেই উপস্থিত থাকতে দেওয়া হয়নি। এমনকি তার নিজের বোন একজন পেশাদার আইনজীবী হওয়া সত্ত্বেও তাকে আইনি সহায়তা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে সিএনএন-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

কারাগারের দরজায় শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা

গত ১৪ জানুয়ারি (বুধবার) আলবোর্জ প্রদেশের ঘেজেল হেসার কারাগারে এরফানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা ছিল। রীতি অনুযায়ী, ফাঁসির আগে শেষবারের মতো পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল তাকে। বিদায়বেলার সেই বুকফাটা কান্নার মধ্যেই হঠাৎ খবর আসে যে, তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। এরফানের আত্মীয় সুমাইয়া জানিয়েছেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় তারা এই অভাবনীয় খবরটি পান। নরওয়ে ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হেঙ্গাও’ (Hengaw Organization for Human Rights) সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এই তথ্য বিশ্ববাসীকে জানিয়েছে।

ট্রাম্পের হুমকি ও ভূ-রাজনীতির মারপ্যাঁচ

ইরানের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রচ্ছন্ন হুমকি কাজ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী ব্যবস্থা নিলে ইরানকে 'কঠোর পরিণাম' ভোগ করতে হবে বলে আগেভাগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, ইরানে আপাতত হত্যাকাণ্ড ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বন্ধ হয়েছে।"

তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তার মতে, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার খবরটি আসলে ‘ভুয়া তথ্য’ (Fake News), যা ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর জন্য প্রচার করা হচ্ছে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, "বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই সরকারের নেই।"

দমনপীড়ন ও বিচারবিভাগের অনড় অবস্থান

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী, ডিসেম্বরের শেষ ভাগ থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে ইরানজুড়ে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA)-এর তথ্যমতে, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহতের সংখ্যা ৫০০ থেকে ২০০০-এর মধ্যে হতে পারে। এর আগে ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই রাজপথে সহিংসতায় জড়িত ‘দাঙ্গাকারীদের’ দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার মতে, কঠোর সাজার ভয় না থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব।

এরফান সোলতানির প্রাণদণ্ড স্থগিত হওয়ার ঘটনাটি ইরানের চলমান আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে এই পদক্ষেপ আপাতত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র স্নায়ুযুদ্ধকে কিছুটা হলেও প্রশমিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tags: donald trump human rights tehran news iran protest geopolitical news erfan soltani death penalty execution stayed prison update global pressure