ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকে দেশে ধারাবাহিক হত্যাযজ্ঞ চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নির্বাচনি প্রার্থীরাও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ড জামায়াতের সহ-সভাপতি ডা. আনোয়ার উল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগরী উত্তরের শের-ই-বাংলা নগর দক্ষিণ থানা জামায়াত এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও প্রার্থীদের নিরাপত্তাহীনতা
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাইফুল আলম মিলন বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার বারবার একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশের Law and Order বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। সন্ত্রাসীদের হাতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র থাকলেও তা উদ্ধারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, দেশের এই অস্থির অবস্থায় প্রার্থীরাও এখন নিরাপদ বোধ করছেন না, যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায়।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’-এর দাবি
নির্বাচন নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হওয়া উদ্বেগ ও শঙ্কার কথা উল্লেখ করে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, “ভোটের ময়দানে সমতা বা Level Playing Field নিশ্চিত করতে হলে সবার আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। চিহ্নিত অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার না করে কোনোভাবেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়।” তিনি অবিলম্বে সরকারকে এই বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান।
ডা. আনোয়ার উল্লাহ হত্যাকাণ্ড: প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
গত কয়েকদিনের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডগুলোকে ‘পরিকল্পিত’ বলে অভিহিত করেন সাইফুল আলম মিলন। তিনি বলেন, “রাজাবাজারের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ডা. মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহর হত্যাকাণ্ড ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। অথচ ঘটনার দুই দিন পার হয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। দেশে হত্যাকাণ্ড এখন নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ওসমান হাদি ও ডা. আনোয়ারসহ সাম্প্রতিক সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা না হলে দেশে সুশাসন (Good Governance) প্রতিষ্ঠিত হবে না এবং নির্বাচনের পরিবেশ আরও কলুষিত হবে।
বিক্ষোভ ও মিছিলের কর্মসূচি
ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান আযমী, অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ মন্ডল এবং ছাত্রশিবিরের নেতা এজাজ আহমেদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধন শেষে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি রাজধানীর ফার্মগেট এলাকা থেকে শুরু হয়ে বিজয় সরণি ও মনিপুরী পাড়া হয়ে তেজগাঁও মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ডা. আনোয়ার উল্লাহর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন।