ভেনেজুয়েলার প্রভাবশালী বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর অকুতোভয় নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক ত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ লড়াই ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের মশাল জ্বালিয়ে রাখা এই নেত্রীকে ‘অসাধারণ নারী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাতে দুই নেতার মধ্যে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্পের অকুণ্ঠ প্রশংসা
বৈঠক শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ দেওয়া এক পোস্টে মাচাদোর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, মাচাদো একজন অত্যন্ত দৃঢ়চেতা ব্যক্তিত্ব, যিনি নিজ দেশে গণতন্ত্র (Democracy) ফিরিয়ে আনতে অবর্ণনীয় প্রতিকূলতা সহ্য করেছেন। ট্রাম্পের এই বার্তা লাতিন আমেরিকার ভূ-রাজনীতিতে (Geopolitics) ওয়াশিংটনের অবস্থানের এক শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উপহার হিসেবে নোবেল পদক: আবেগ ও আইনি জটিলতা
এই বৈঠকের সবচেয়ে আলোচিত এবং নজিরবিহীন মুহূর্তটি ছিল মাচাদোর পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার অর্জিত নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি উপহার দেওয়া। ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়ে শান্তিতে নোবেল জয় করা মাচাদো এই পদকটি ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন। ট্রাম্প একে ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক অনন্য নিদর্শন’ বলে বর্ণনা করেছেন।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও বিভিন্ন সময় নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। গত বছর মাচাদো যখন এই পুরস্কার পান, তখন ট্রাম্পের অনুসারীদের মধ্যে কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও মাচাদো শুরু থেকেই বলে আসছিলেন যে, এই সম্মান তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান। তবে এই পদক হস্তান্তরের বিষয়টি নিয়ে নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে আইনি বাধ্যবাধকতা ও প্রটোকল (Protocol) মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। কমিটির নিয়ম অনুযায়ী, একবার পদক ঘোষিত হয়ে গেলে তা আইনগতভাবে অন্য কারও কাছে হস্তান্তর বা মালিকানা পরিবর্তন করা যায় না। ফলে প্রতীকীভাবে ট্রাম্প পদকটি পেলেও নথিপত্রে মাচাদোই বিজয়ী হিসেবে স্বীকৃত থাকবেন।
ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে নতুন বার্তা
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকটি ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে মাচাদো তার সমর্থকদের জানান যে, ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেন। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেলখাত (Oil Sector) পুনর্গঠন এবং দেশটির একটি সম্ভাব্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার (Interim Arrangement) ব্যবস্থার ওপর কড়া নজর রাখছে।
মাচাদোর এই সফরের ফলে ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনৈতিক জোটের প্রতি মার্কিন ‘ডিপ্লোম্যাটিক সাপোর্ট’ আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রশ্নে ট্রাম্প ও মাচাদোর এই ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা’র সম্পর্ক লাতিন আমেরিকার দেশটিতে নতুন কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ সুগম করতে পারে। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই সফরের মাধ্যমে মাচাদো আন্তর্জাতিক মহলে তার অবস্থান যেমন পোক্ত করলেন, তেমনি ট্রাম্পকেও ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে এক শক্তিশালী মিত্র হিসেবে পাশে পেলেন।