• আন্তর্জাতিক
  • বিক্ষোভ দমনের অভিযোগে ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, নিশানা নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দিকে

বিক্ষোভ দমনের অভিযোগে ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, নিশানা নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দিকে

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ‘ছায়া ব্যাংকিং’ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ১৮ ব্যক্তির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
বিক্ষোভ দমনের অভিযোগে ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, নিশানা নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দিকে

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমনের অভিযোগে দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে, মার্কিন অর্থ দপ্তর ইরানের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘ছায়া ব্যাংকিং’ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত আরও ১৮ ব্যক্তির ওপর পৃথক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বেআইনি অর্থ পাচার ঠেকাতে ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি, ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডাররা। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এই কর্মকর্তারাই দেশজুড়ে বিক্ষোভ দমনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করেছেন।

কারাগারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্র ফারদিস কারাগারকেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, এই কারাগারে নারী বন্দিদের ওপর ‘নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণ’ চালানো হয়েছে।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারির কঠোর হুঁশিয়ারি

এক ভিডিও বার্তায় মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইরানের শাসকগোষ্ঠীর প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “মার্কিন ট্রেজারি জানে—ডুবন্ত জাহাজ থেকে পালানোর মতো করে আপনারা ইরানি জনগণের কাছ থেকে চুরি করা অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঠাচ্ছেন। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা আপনাদের অর্থের গতিপথ অনুসরণ করব।” তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্তা তুলে ধরে বলেন— “সহিংসতা বন্ধ করুন এবং ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়ান।” বেসেন্ট আরও যোগ করেন, স্বাধীনতা ও ন্যায়ের দাবিতে ইরানি জনগণের পাশে যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট তার হাতে থাকা সব ধরনের উপায় ব্যবহার করবে।

অর্থনৈতিক সংকটের কথা স্বীকার ইরানি প্রেসিডেন্টের

এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, সরকার বিক্ষোভের পেছনে থাকা অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছে। তিনি দুর্নীতি, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং নিম্নআয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এই অস্থিরতার জন্য তেহরানের শাসকগোষ্ঠী বরাবরের মতোই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। এ বিষয়ে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে ইরানের মিশন তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

ছায়া ব্যাংকিংয়ের সাথে জড়িতদের ওপর পৃথক নিষেধাজ্ঞা

মার্কিন অর্থ দপ্তর পৃথক এক নিষেধাজ্ঞায় ১৮ জনের কথা উল্লেখ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘ছায়া ব্যাংকিং’ (Shadow Banking) নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা ইরানের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রির অর্থ পাচারে জড়িত ছিলেন।

Tags: us sanctions human rights iran irgc masoud pezeshkian supreme national security council faradis prison scott besant shadow banking