নাগরিক শোকসভা ও অংশগ্রহণকারীরা
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে এই নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিক, কূটনীতিক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদক, ব্যবসায়ীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেন। অনুষ্ঠানটি বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শেষ হয়।
অর্থনীতিতে খালেদা জিয়ার ভূমিকা
মানুষ হিসেবে খালেদা জিয়ার আপসহীন নীতির কথা উল্লেখ করে সিমিন রহমান বলেন, খালেদা জিয়ার সময়কালে ভ্যাট পলিসি (VAT Policy), আর্থিক খাতের সংস্কার, প্রাইভেটাইজেশন বোর্ড (Privatisation Board) এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (Securities and Exchange Commission) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী হয়। পাশাপাশি, প্রবাসী আয় (Remittance) এবং রপ্তানি বৃদ্ধি দেশের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করে।
পোশাক ও ওষুধ শিল্পে বিশেষ অবদান
সিমিন রহমান বিশেষভাবে তৈরি পোশাক শিল্পে (RMG sector) খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৯৪ সালে ওষুধের মূল্যনীতির (Drug Pricing Policy) কারণে ওষুধশিল্পে গুণগত উন্নয়ন, গবেষণা ও বিনিয়োগ বাড়ে। এর ফলস্বরূপ বাংলাদেশ আজ ওষুধ উৎপাদনে শতভাগ স্বাবলম্বী, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এক অসাধারণ উদাহরণ।
নৈতিকতা ও মূল্যবোধের প্রতি গুরুত্ব
ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান জানান, খালেদা জিয়া সব সময় বিশ্বাস করতেন যে ব্যবসা হতে হবে নৈতিকতার সঙ্গে এবং উন্নয়ন হবে মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে। তিনি বলেন, সাবেক এই সরকারপ্রধানের এমন গুণাবলী তিনি তাঁর বাবা ও ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত লতিফুর রহমানের জীবন ও কর্মেও দেখেছেন। সিমিন রহমান ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, খালেদা জিয়া সবসময়ই ব্যবসায়ীদের নৈতিকভাবে ও সঠিক পথে ব্যবসা করার জন্য অনুপ্রেরণা দিতেন। এমন মূল্যবোধের বিকাশে তাঁর প্রেরণা ও নেতৃত্ব ছিল নীরব, কিন্তু শক্তিশালী।
শ্রদ্ধা ও স্মরণ
সিমিন রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, 'খালেদা জিয়া আজ নেই, কিন্তু তাঁর ত্যাগ, তাঁর দৃঢ়তা এবং নীরব সাহস বেঁচে থাকবে। বাংলাদেশ তাঁকে হারায়নি, বাংলাদেশ তাঁকে ইতিহাসে অমর করেছে।'