বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ৭৯৬ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার। সে হিসাবে এ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে এখন পর্যন্ত ২১ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
অর্থবছরের সার্বিক চিত্র
চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনে ১১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। গত ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ৩২২ কোটি ডলার, যা নভেম্বরের (২৮৯ কোটি ডলার) চেয়ে ৩৩ কোটি ডলার বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২৫ সালে সব মিলিয়ে দেশে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল। এই আয় বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকে গচ্ছিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় সমান।
গত বছর (২০২৫) প্রবাসী আয়ের গতি ভালো থাকায় দেশের বাজারে ডলারের তেমন সংকট দেখা যায়নি। ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বছরজুড়েই বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে।
নির্বাচন ও রমজানের প্রভাব
একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, এখন বাড়তি যে প্রবাসী আয় আসছে, তার বড় অংশই বিভিন্ন প্রার্থীর নির্বাচনের খরচ মেটানোর জন্য পাঠানো হচ্ছে। যেসব দেশে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা বেশি, সেগুলো থেকেই বেশি রেমিট্যান্স আসছে। অনেক প্রার্থীর জন্য বিদেশে তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা প্রবাসী আয়ের নামে দেশে ঢুকছে। ব্যাংকাররা আশা করছেন, নির্বাচন এবং আসন্ন রমজান মাস মিলিয়ে সামনে মার্চ মাস পর্যন্ত এই ভালো প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।
রিজার্ভ ও ডলারের অস্থিরতা
২০২১ সালে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছিল, যা এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। এরপর তা কমতে শুরু করে। ২০২৪ সালের আগস্টে যখন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়, তখন মোট রিজার্ভ কমে ২৬ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। এখন অবশ্য রিজার্ভ বেড়ে ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। রিজার্ভ যখন কমেছিল, তখন দেশে ডলার-সংকট চরম আকার ধারণ করেছিল। ব্যাংক খাতে ডলারের দাম বেড়ে ১২৮ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। বর্তমানে সংকট কিছুটা কেটে যাওয়ায় এখন ডলারের দাম কমে ১২২-১২৩ টাকার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে।