• রাজনীতি
  • ভোটের সমীকরণে নাটকীয় মোড়: ইসলামী আন্দোলনের ‘বিদ্রোহে’ জরুরি বৈঠকে বসছে জামায়াত

ভোটের সমীকরণে নাটকীয় মোড়: ইসলামী আন্দোলনের ‘বিদ্রোহে’ জরুরি বৈঠকে বসছে জামায়াত

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
ভোটের সমীকরণে নাটকীয় মোড়: ইসলামী আন্দোলনের ‘বিদ্রোহে’ জরুরি বৈঠকে বসছে জামায়াত

আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন ও জোটের ভবিষ্যৎ রক্ষায় ১০ দলের লিঁয়াজো কমিটির গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা; ৪৭টি আসনের ভাগ্য ঝুলে আছে শেষ মুহূর্তের সমঝোতার ওপর।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যেই নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একক নির্বাচনের আকস্মিক ঘোষণার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নীতি-নির্ধারণী ফোরাম। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজধানীর মগবাজারস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মগবাজারে জামায়াতের রুদ্ধদ্বার বৈঠক

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের (Executive Council) সদস্য এবং আসন সমঝোতার দায়িত্বে থাকা শীর্ষ নেতারা এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ‘অসহযোগিতার’ অভিযোগ এবং স্বতন্ত্র অবস্থানের ঘোষণার পর জোটের পরবর্তী কৌশল (Political Strategy) কী হবে, তা নিয়েই মূলত এই আলোচনা। একই দিনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলের লিঁয়াজো কমিটিরও (Liaison Committee) বসার কথা রয়েছে, যেখানে নির্বাচনী আসন বণ্টন ও জোটের ঐক্য নিয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হতে পারে।

আসন সমঝোতা ও ইসলামী আন্দোলনের ‘একলা চলো’ নীতি

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (NCP) ১০টি দলের মধ্যে ২৫৩টি আসনে চূড়ান্ত সমঝোতার (Seat Sharing) ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তখন জানানো হয়েছিল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং সে কারণেই বাকি ৪৭টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে।

তবে ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই শুক্রবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি। জামায়াতের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি আসনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এছাড়া বাকি ৩২টি আসনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি বাদে সমমনা দলগুলোর প্রার্থীদের সমর্থনের কথা জানায় তারা। দলটির এই অবস্থান বৃহত্তর নির্বাচনী জোট গঠনের ক্ষেত্রে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৪৭ আসনের ভাগ্য ও শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক তৎপরতা

১০ দলীয় জোটের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে, রাজনৈতিক সমীকরণ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। জোটের নেতারা মনে করছেন, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনকে ১১ দলীয় জোটে (11-Party Alliance) রাখার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হবে। এমনকি আজ শনিবার ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে ১০ দলের প্রতিনিধিদের একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।

যদি শেষ পর্যন্ত সমঝোতা ব্যর্থ হয়, তবে ফাঁকা রাখা ৪৭টি আসনে ১০ দলের পক্ষ থেকে নতুন করে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। সে ক্ষেত্রে বর্তমান নির্বাচনী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াত ও তাদের মিত্রদের অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ধর্মীয় ঘরানার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই বিভক্তি ভোটের মাঠে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। জামায়াতের আজকের বৈঠক থেকে কেবল আসন বণ্টন নয়, বরং ইসলামী আন্দোলনের অভিযোগের বিপরীতে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা জোটের নতুন সাংগঠনিক অবস্থান (Organizational Position) স্পষ্ট করা হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে আগামী নির্বাচনের জোটবদ্ধ আন্দোলনের চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ।

Tags: political crisis bangladesh politics seat sharing election news islamic alliance jamaat meeting maghbazar liaison committee nomination update seat consensus