• আন্তর্জাতিক
  • আরব বিশ্বে অস্ত্র বিক্রির দৌড়ে পাকিস্তান: সফলতা ও ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

আরব বিশ্বে অস্ত্র বিক্রির দৌড়ে পাকিস্তান: সফলতা ও ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

পাকিস্তানের তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে সৌদি আরব, ইরাকসহ একাধিক আরব দেশ। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূরাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করা ইসলামাবাদের জন্য কঠিন হবে।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
আরব বিশ্বে অস্ত্র বিক্রির দৌড়ে পাকিস্তান: সফলতা ও ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

আরব বিশ্বে সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধবিমান বিক্রির মাধ্যমে নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছে পাকিস্তান। সৌদি আরব, ইরাক, সুদান এবং লিবিয়ার মতো বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইসলামাবাদের আলোচনা চলছে এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা সমঝোতাও চূড়ান্ত হওয়ার পথে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূরাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করা পাকিস্তানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

আরব বিশ্বে পাকিস্তানের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি

পাকিস্তানের তৈরি সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতি ও প্রভাব ক্রমশ আরব বিশ্বে বাড়ছে। এতদিন আরব মিত্রদের সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণের মধ্যে পাকিস্তানের সামরিক ভূমিকা সীমাবদ্ধ থাকলেও, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলো এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুদানের সামরিক বাহিনীর কাছে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের যুদ্ধবিমান ও অস্ত্র বিক্রির চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে রয়েছে পাকিস্তান। যদিও অঙ্কের হিসাবে এটি খুব বড় চুক্তি নয়, তবে তিন বছর ধরে চলা সুদানের গৃহযুদ্ধে এর প্রভাব হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ।

জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমানের চাহিদা

পাকিস্তানের অস্ত্র বিক্রির এই কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে গত বছরের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত 'কৌশলগত যৌথ প্রতিরক্ষা সমঝোতা'। এই চুক্তির পর থেকেই সৌদি আরব পাকিস্তানের তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ইরাকও এই যুদ্ধবিমান কিনতে আগ্রহী। এর আগে মিয়ানমার, নাইজেরিয়া ও আজারবাইজান এই যুদ্ধবিমান কিনেছে। এছাড়া, লিবিয়ার বিদ্রোহী নেতা খলিফা হাফতারের সঙ্গে ৪০০ কোটি ডলারের জেএফ-১৭ থান্ডার বিক্রির একটি চুক্তি স্বাক্ষরের কথাও শোনা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়াও এই যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেছে।

অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ও চীনের সহযোগিতা

করাচিভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কে ট্রেডের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিমান ছাড়াও পাকিস্তান বিভিন্ন দেশের কাছে ট্যাংক, ড্রোন, সাঁজোয়া যান, নৌবাহিনীর অস্ত্র-প্রযুক্তি এবং ছোট অস্ত্র বিক্রি করছে। সামরিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, চীনের সহযোগিতা থাকায় এই আরব দেশগুলো তাদের চাহিদা অনুযায়ী অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের জন্য পাকিস্তানকে একটি বিশ্বস্ত উৎস হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। রিয়াদের কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিচার্সের সহযোগী ফেলো উমর করিম এই বিষয়টির উপর জোর দিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

পাকিস্তানের এই উদ্যোগগুলো দেশটির প্রতিরক্ষাশিল্পের জন্য সম্ভাবনার দুয়ার খুললেও, মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূরাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করা ইসলামাবাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলছেন যে আরব বিশ্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে পাকিস্তানকে অত্যন্ত সতর্কভাবে এগোতে হবে। অন্যথায় গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

Tags: middle east saudi arabia pakistan geopolitics defense industry sudan arms trade jf-17 thunder iraq