রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় এখন কূটনৈতিক তৎপরতায় মুখর। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে এক ঝটিকা সফরে একে একে তিন দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে। যুক্তরাজ্য, নেপাল ও ভুটানের রাষ্ট্রদূতদের এই ধারাবাহিক বৈঠককে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের বিশ্লেষকরা।
ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে পৌঁছান ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী এই বৈঠকে তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। বৈঠকে মূলত বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এই উচ্চপর্যায়ের ‘Diplomatic Meeting’-এ তারেক রহমানের সঙ্গে অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উইংয়ের অন্যতম প্রধান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিএনপি চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির। যুক্তরাজ্যের মতো একটি প্রভাবশালী উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে এই বৈঠক বিএনপির জন্য বড় ধরনের ‘Diplomatic Milestone’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা
ব্রিটিশ হাইকমিশনারের আগে বিকেলের দিকে তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নেপাল ও ভুটানের রাষ্ট্রদূতরা। বিকেল ৪টায় প্রথমে আসেন নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি। বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার ‘Geopolitics’ বা ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পায়।
নেপালের রাষ্ট্রদূতের বিদায়ের পরপরই বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাসো কর্মা হামু দর্জি। তার সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে ‘Regional Cooperation’ বা আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কীভাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা যায়, সে বিষয়ে তারেক রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চান রাষ্ট্রদূতরা।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা নিয়ে আগ্রহ
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিদেশী কূটনীতিকদের এই ঘনঘন সাক্ষাতের নেপথ্যে রয়েছে বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর আগ্রহ। রাষ্ট্রদূতেরা মূলত বাংলাদেশের বর্তমান অস্থিরতা নিরসনে বিএনপির পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ‘Master Plan’ সম্পর্কে অবগত হতে চাচ্ছেন। বিএনপি নেতারাও দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে জোরালো ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের ওপর জোর দিচ্ছেন, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দলের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষণে নতুন মাত্রা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের সঙ্গে একই দিনে তিন দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিদের এই বৈঠক প্রমাণ করে যে, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তারেক রহমানের নেতৃত্ব এবং বিএনপির অবস্থানকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে ‘Global Diplomacy’-র এই যুগে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সরাসরি উপস্থিতি এবং দক্ষিণ এশিয়ার দুই নিকট প্রতিবেশীর সাথে সংলাপ বিএনপির ‘Foreign Policy’ বা পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করেছে।