এএফসি এশিয়ান কাপ (AFC Asian Cup) বাছাই পর্ব থেকে বিদায় আগেই নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের। তবে খাতা-কলমের হিসেব চুকে গেলেও জামাল ভূঁইয়া ও হামজা চৌধুরীদের সামনে এখন মান-মর্যাদার লড়াই। বিশেষ করে গত নভেম্বরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের যে তুঙ্গে রয়েছে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা, তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী মার্চে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাছাই পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে এবার শক্তিশালী প্রস্তুতির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
লক্ষ্য যখন ভারতকে পেছনে ফেলে টেবিলের তিনে থাকা
গ্রুপ সি-তে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। ৫ ম্যাচ শেষে ১১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে এশিয়ান কাপের টিকিট পাওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে সিঙ্গাপুর। ৮ পয়েন্ট নিয়ে তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে হংকং। অন্যদিকে, ভারতকে হারিয়ে এবং দুটি ড্রয়ের সৌজন্যে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে ধুঁকছে ভারত। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আগামী ম্যাচে অন্তত এক পয়েন্ট বা হার এড়াতে পারলেই ভারতকে নিচে রেখে টুর্নামেন্ট শেষ করার এক অনন্য গৌরব অর্জন করবে হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার শিষ্যরা।
২০ মার্চ থেকে নিবিড় অনুশীলন ও প্রস্তুতির রূপরেখা
সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধ কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে বাফুফে একটি সুপরিকল্পিত রোডম্যাপ তৈরি করেছে। ফেডারেশন জানিয়েছে, আগামী ২০ মার্চ থেকে শুরু হবে জাতীয় দলের নিবিড় কন্ডিশনিং ক্যাম্প (Training Camp)। এই ক্যাম্পে ফুটবলারদের ফিটনেস এবং ট্যাকটিক্যাল বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সিলেটে সপ্তাহব্যাপী এই ক্যাম্প শেষ করে ২৮ মার্চ সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে উড়াল দেবেন জামাল-হামজারা। আগামী ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের মাটিতে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।
সিলেটে সম্ভাব্য ‘ওয়ার্ম-আপ’ ম্যাচ: প্রতিপক্ষ যখন কম্বোডিয়া বা তিমুর লেস্তে
সিঙ্গাপুর যাত্রার আগে নিজেদের শক্তিমত্তা ঝালিয়ে নিতে একটি আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি ম্যাচ (International Friendly) খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাফুফে। সিলেটে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে ভাবা হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই দল কম্বোডিয়া অথবা তিমুর লেস্তেকে। সিঙ্গাপুরের খেলার ধরনের সঙ্গে মিল থাকায় এই দুই দলের যেকোনো একটির বিপক্ষে খেলা বাংলাদেশের জন্য ‘অ্যাডভান্টেজ’ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। এই প্রস্তুতি ম্যাচটি দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং সঠিক একাদশ নির্বাচন করতে কোচকে বড় সাহায্য করবে।
প্রতিশোধের হাতছানি ও গ্রুপ সমীকরণ
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে প্রথম দফার দেখায় ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই হারের ক্ষত এখনো টাটকা। এবার সিঙ্গাপুরের মাটিতেই সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার মোক্ষম সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। তবে সিঙ্গাপুরের জন্য এই ম্যাচটি বাঁচা-মরার লড়াই। তারা হারলে এবং হংকং তাদের শেষ ম্যাচে জয় পেলে সিঙ্গাপুরের মূল পর্বে যাওয়ার স্বপ্ন ফিকে হয়ে যেতে পারে। ফলে একটি আক্রমণাত্মক ফুটবলের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ফুটবল ভক্তরা।
আধুনিক ফুটবল ও গ্লোবাল ডিসকোর্স
বর্তমানে বাংলাদেশ ফুটবল দলে হামজা চৌধুরীর মতো প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তি দলের ভেতরে একটি প্রোফেশনাল ভাইব (Professional Vibe) তৈরি করেছে। এছাড়া জিপিএস ট্র্যাকারের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স অ্যানালিসিস এবং ডাটা সেন্টার (Data Center) ভিত্তিক প্রস্তুতির মাধ্যমে কোচিং স্টাফরা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এশিয়ান কাপে যাওয়ার সুযোগ না থাকলেও, ফিফা র্যাঙ্কিং (FIFA Ranking) এবং এশিয়ান ফুটবলে নিজেদের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ানোর জন্য সিঙ্গাপুর ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।