পাকিস্তানের করাচিতে এক ভয়াবহ অপরাধের পসরা সাজিয়ে বসা ‘সিরিয়াল পেডোফাইল’ ইমরান ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত কয়েক বছর ধরে অন্তত ১০০ জন নাবালককে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত এই ব্যক্তি করাচির সাধারণ মানুষের কাছে এক মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) করাচি পুলিশ এই দীর্ঘস্থায়ী এবং জটিল তদন্তের সফল সমাপ্তির ঘোষণা দেয়।
পাঁচ বছরের রহস্য উন্মোচন: ডিএনএ ল্যাবরেটরির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এক লোমহর্ষক তথ্য। করাচির পূর্ব জেলার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (এসএসপি) ইনভেস্টিগেশন, মুহাম্মদ উসমান সাদোজাই জানিয়েছেন, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নথিবদ্ধ হওয়া শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের সাতটি পৃথক মামলায় অভিযুক্তের কোনো হদিস মিলছিল না। তবে মোড় ঘুরে যায় যখন ‘ডিএনএ ল্যাবরেটরি’ (DNA Laboratory) থেকে একটি বিশেষ প্রতিবেদন আসে। সেখানে দেখা যায়, সাতটি ভিন্ন অপরাধস্থলের ডিএনএ নমুনা একই ব্যক্তির। এরপরই পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একজন পেশাদার অপরাধীর সুপরিকল্পিত শিকার।
যেভাবে পুলিশের জালে ধরা পড়ল অপরাধীচক্র
প্রধান অভিযুক্ত ইমরান দীর্ঘ সময় ধরে ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী ছেলেদের টার্গেট করে আসছিল। তদন্তকারীদের মতে, সে শতাধিক শিশুকে যৌন নির্যাতন (Child Abuse) করেছে। তার সহযোগী ওয়াকাস খানকেও গ্রেফতার করা হয়েছে, যে এই জঘন্য অপরাধে তাকে সরাসরি মদত দিত।
করাচির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তির দক্ষ ব্যবহারই এই সাফল্যের চাবিকাঠি। অপরাধীদের গতিবিধি শনাক্ত করতে পুলিশ বিস্তীর্ণ এলাকার ‘সিসিটিভি ফুটেজ’ (CCTV footage) বিশ্লেষণ করে এবং মোবাইল টাওয়ার লোকেশন বা ‘জিও-ফেন্সিং’ (Geo-fencing) প্রযুক্তির সহায়তা নেয়। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ যখন অভিযান চালায়, তখন অভিযুক্ত ইমরান তার সহযোগীকে নিয়ে পরবর্তী কোনো অপরাধের নীল নকশা তৈরি করছিল।
ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
গ্রেফতারের পর অন্তত তিনজন আক্রান্ত শিশু অভিযুক্তদের শনাক্ত করেছে। সরকারি নথিতে ইতিমধ্যে ইমরানের বিরুদ্ধে সাতটি নির্দিষ্ট মামলা নিবন্ধিত রয়েছে, তবে তদন্তের ব্যাপ্তি বাড়ার সাথে সাথে এই তালিকার দৈর্ঘ্য আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ এই ঘটনাকে দীর্ঘ কয়েক বছরের অপরাধমূলক প্যাটার্ন (Pattern of Crime) শনাক্তকরণের একটি বিশাল সাফল্য হিসেবে দেখছে।
করাচি পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মামলার মাধ্যমে তারা সমাজে একটি কড়া বার্তা দিতে চান যে, অপরাধী যত কৌশলীই হোক না কেন, আধুনিক ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়া থেকে রক্ষা পাওয়া অসম্ভব। বর্তমানে আসামিদের কঠোর পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানানো হবে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।