মিরপুরের শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ দেখা গেল টি-টোয়েন্টি (T20) ক্রিকেটের প্রকৃত বিনোদন। একই ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরির বিরল মহিমা সাক্ষী হয়ে থাকল ক্রিকেটপ্রেমীরা। আফগান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবীর ছেলে হাসান ইসাখিলের বিধ্বংসী শতককে ম্লান করে দিয়ে দিনের নায়ক হয়ে উঠলেন রংপুরের তাওহিদ হৃদয়। তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ভর করে নোয়াখালীকে ৮ উইকেটে হারিয়ে লিগ পর্বের ইতি টানল রংপুর রাইডার্স।
আফগান ঝড়ে কুপোকাত নোয়াখালী
রোববার (১৮ জানুয়ারি) টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে নোয়াখালী শুরুতে কিছুটা চাপে পড়েছিল। রহমত আলী (৯) ও জাকের আলী অনিক (৩) দ্রুত বিদায় নিলে ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন হাসান ইসাখিল। অধিনায়ক হায়দার আলিকে সঙ্গে নিয়ে রংপুরের বোলারদের ওপর স্টিম রোলার চালান এই তরুণ আফগান। মাত্র ৭২ বলে ১০৭ রানের এক অপরাজিত ইনিংস খেলেন ইসাখিল, যেখানে ছিল ৪টি চার ও ১১টি বিশাল ছক্কা।
এই ইনিংসের মাধ্যমেই বিপিএল ইতিহাসে প্রথম আফগান ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন তিনি। এছাড়া চলতি বিপিএলে এটি দ্বিতীয় শতক। ইসাখিলের দানবীয় ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রানের লড়াকু পুঁজি পায় নোয়াখালী। হায়দার আলি ৩২ বলে ৪২ রান করে যোগ্য সঙ্গ দেন।
হৃদয়ের রাজসিক জবাব ও রেকর্ড গড়া ইনিংস
১৭৪ রানের টার্গেটে (Target) তাড়া করতে নেমে রংপুর রাইডার্সকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দাউদ মালান ও তাওহিদ হৃদয়। ওপেনিং স্ট্যান্ডে (Opening Stand) তারা যোগ করেন ৭৮ রান। মালান ১৭ বলে ১৫ রান করে ফিরে গেলেও উইকেটের অন্যপ্রান্তে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন হৃদয়। আস্কিং রান রেট (Asking Run Rate) নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি চড়াও হন নোয়াখালীর স্পিনার ও পেসারদের ওপর।
লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে জয়ের দিকে এগোতে থাকেন হৃদয়। মাত্র ৫৭ বলে ১৪টি চার ও ২টি ছক্কায় নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। এটি হৃদয়ের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস। আউট হওয়ার আগে ৬৩ বলে ১০৯ রানের এক ক্ল্যাসিক ইনিংস খেলেন তিনি। তার এই স্ট্রাইক রেট (Strike Rate) এবং শট সিলেকশন গ্যালারির দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে।
লিটনের দায়িত্বশীল ব্যাটিং ও জয় নিশ্চিতকরণ
হৃদয় যখন আউট হন, জয়ের জন্য রংপুরের তখনো কিছু রানের প্রয়োজন ছিল। সেই কাজটুকু ঠান্ডা মাথায় সারেন লিটন দাস ও খুশদীল শাহ। লিটন ৩৫ বলে ৩৯ রানের হার না মানা এক ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন। শেষ পর্যন্ত ২ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটের বিশাল জয় পায় রংপুর।
এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে লিগ পর্ব শেষ করল রংপুর রাইডার্স। অন্যদিকে, হাসান ইসাখিলের অনবদ্য ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স সত্ত্বেও দলের হার নোয়াখালীর জন্য ছিল চরম হতাশাজনক। তবে এক ম্যাচে দুই সেঞ্চুরির এই লড়াই বিপিএলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।