ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরে এক রক্তক্ষয়ী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ জনে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি যাত্রীবাহী বাস এবং ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের মধ্যে এই Fatal Collision ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৫ জনই নারী, যা দুর্ঘটনার ভয়াবহতাকে আরও বেশি শোকাবহ করে তুলেছে।
দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট: মুহূর্তের অসতর্কতায় মৃত্যুমিছিল
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটকচর এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। মাদারীপুর থেকে রাজধানী অভিমুখে ছেড়ে আসা ‘সার্বিক পরিবহন’-এর একটি দ্রুতগামী বাস সামনে থাকা একটি ইজিবাইককে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা সামলাতে না পেরে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং মহাসড়কের পাশের একটি গভীর ডোবায় পড়ে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়। ঘটনাস্থলেই ইজিবাইকের তিন যাত্রীসহ ছয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। পরবর্তীকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন প্রাণ হারান।
যৌথ উদ্ধার অভিযান ও বর্তমান পরিস্থিতি
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে উদ্ধারকাজে যোগ দেয় সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং হাইওয়ে পুলিশের একটি বিশেষ দল। মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, উদ্ধার তৎপরতা আরও গতিশীল করতে ফায়ার সার্ভিসের দক্ষ Divers (ডুবুরি দল) নিয়োগ করা হয়েছে। একটি শক্তিশালী রেকার ব্যবহার করে বাসটি পানির ওপর তোলা সম্ভব হলেও পানির নিচে তলিয়ে থাকা ইজিবাইকটির ভেতরে আর কেউ আটকে আছে কি না, তা নিশ্চিতে পুরো ডোবা জুড়ে Search Operation চালানো হচ্ছে।
প্রশাসনিক বক্তব্য ও যান চলাচল
মাদারীপুরের মোস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন আল রশিদ জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনার ফলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। তবে বর্তমানে পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মহাসড়কে বাসের অতিরিক্ত গতি নাকি যান্ত্রিক ত্রুটি এই দুর্ঘটনার কারণ, তা খতিয়ে দেখতে একটি প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। মাদারীপুরের এই ট্র্যাজেডি আবারও সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টিকে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করাল।