আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের রাজনৈতিক অঙ্গন। নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যেই প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রচারণা চালানোর অভিযোগে শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম আনু। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় রবিবার (১৮ জানুয়ারি) তার বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অনুসন্ধান কমিটির কড়া অবস্থান
নাটোর-৩ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান এবং সিভিল জজ মৌসুফা তানিয়া এই শোকজ নোটিশ জারি করেন। নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, প্রার্থী হিসেবে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার আগে কোনো ধরনের প্রচারণা চালানো ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’-এর সরাসরি লঙ্ঘন। বিধি ৩, ৭ ও ১৮ ভঙ্গ করার কারণে এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর নির্দিষ্ট ধারা মোতাবেক কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
অভিযোগের নেপথ্যে কী?
সূত্রমতে, নাটোর-৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মো. দাউদার মাহমুদ গত ১৩ জানুয়ারি আনোয়ারুল ইসলাম আনুর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে বলা হয়, বিএনপি মনোনীত এই প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দের আগেই সিংড়ার বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার ও হ্যান্ডবিল বিলি করছেন। এছাড়া Facebook-সহ বিভিন্ন Social Media প্ল্যাটফর্মে তার পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অভিযোগের সাথে সংযুক্ত ভিডিও ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি প্রাথমিক সত্যতা খুঁজে পায়।
শোকজের সময়সীমা ও প্রশাসনিক হুঁশিয়ারি
নোটিশে আনোয়ারুল ইসলাম আনুকে আগামী ১৯ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় নাটোর সিভিল জজ আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নাটোর জেলা নির্বাচন অফিসার মো. নজরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, “নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। আচরণবিধি রক্ষায় আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধেই পক্ষপাতিত্ব করা হবে না এবং আইন ভঙ্গের প্রমাণ মিললেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রার্থীর পাল্টা দাবি: রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র?
এদিকে শোকজ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএনপি প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম আনু তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শোকজের জবাব দেবেন। তবে পুরো বিষয়টিকে তিনি একটি গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিহিংসাবশত পুরোনো কিছু ভিডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তিনি মনে করেন, তার দ্বারা পরিকল্পিতভাবে কোনো Election Code of Conduct লঙ্ঘিত হয়নি।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (OC) এই শোকজ নোটিশটি প্রার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং প্রাপ্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন ১৯ জানুয়ারির শুনানিতে আনোয়ারুল ইসলাম আনুর ব্যাখ্যা কী হয় এবং কমিশন পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে নাটোরবাসী।