• খেলা
  • বিদায়বেলায় জ্বলে উঠলেন সাইফ হাসান, চট্টগ্রামকে হারিয়ে ‘সান্ত্বনার জয়’ পেল ঢাকা ক্যাপিটালস

বিদায়বেলায় জ্বলে উঠলেন সাইফ হাসান, চট্টগ্রামকে হারিয়ে ‘সান্ত্বনার জয়’ পেল ঢাকা ক্যাপিটালস

খেলা ১ মিনিট পড়া
বিদায়বেলায় জ্বলে উঠলেন সাইফ হাসান, চট্টগ্রামকে হারিয়ে ‘সান্ত্বনার জয়’ পেল ঢাকা ক্যাপিটালস

আসরজুড়ে নিষ্প্রভ থাকা সাইফের বিধ্বংসী হাফ-সেঞ্চুরি আর সাইফউদ্দিনের ৪ উইকেটে শেষটা রাঙালো ঢাকা; ৪২ রানের বড় ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়ল চট্টগ্রাম রয়্যালস।

বিপিএলের চলতি আসর থেকে প্লে-অফের দৌড় থেকে আগেই ছিটকে গিয়েছিল ঢাকা ক্যাপিটালস। ফলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি তাদের জন্য ছিল স্রেফ মর্যাদার লড়াই। টুর্নামেন্টে নিজেদের শেষ পদচিহ্নটি অন্তত জয়ের রঙে রাঙাতে মরিয়া ছিল রাজধানীর দলটি। রোববার (১৮ জানুয়ারি) মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চট্টগ্রামের বিপক্ষে ৪২ রানের দাপুটে এক জয় তুলে নিয়ে সেই সান্ত্বনার হাসি নিয়েই মাঠ ছেড়েছে ঢাকা ক্যাপিটালস।

সাইফের ব্যাটে ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো উত্থান

এবারের বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালসের অন্যতম বড় চিন্তার কারণ ছিল ওপেনার সাইফ হাসানের অফ-ফর্ম। প্রথম ৮ ম্যাচে মাত্র ৬০ রান করা এই ব্যাটার আজ যেন অচেনা রূপে আবির্ভূত হলেন। ইনিংসের শুরুতে জুবাইদ আকবারির সঙ্গে তাঁর ৯০ রানের বিধ্বংসী পার্টনারশিপ ঢাকাকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। যেখানে সাইফ খেলেন ৪৪ বলে ৭৩ রানের এক দর্শনীয় ইনিংস, যা সাজানো ছিল ৫টি চার ও ৫টি বিশাল ছক্কায়। তিন নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে চট্টগ্রামের বোলারদের ওপর রীতিমতো স্টিমরোলার চালিয়েছেন তিনি।

ব্যাটিং ধস ও তানভীরের হ্যাটট্রিক সম্ভাবনা

সাইফ ও জুবাইদের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ঢাকা এক সময় পাহাড়সম সংগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। জুবাইদ ২১ রান করে বিদায় নেওয়ার পর পরই দ্রুত কিছু উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে ঢাকা। চট্টগ্রামের বোলার তানভীর ইসলাম হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে শামীম পাটোয়ারীকে ফেরান। শেষ দিকে সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ মিঠুন ও সাইফউদ্দিনের ছোট ছোট অবদানে ইনিংসের ১ বল বাকি থাকতে ১৭০ রানে অলআউট হয় ঢাকা ক্যাপিটালস। চট্টগ্রামের হয়ে তানভীর ৩টি এবং শরিফুল ও আমের জামাল ২টি করে উইকেট নেন।

বোলিং তোপে লণ্ডভণ্ড চট্টগ্রামের টপ অর্ডার

১৭১ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই ঢাকার পেস অ্যাটাক-এর সামনে দিশেহারা হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস। প্রথম ওভারেই মোহাম্মদ হারিসকে সাজঘরে ফেরান তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারে ইমাদ ওয়াসিমের এলবিডব্লিউ-এর ফাঁদে পড়েন মাহমুদুল হাসান জয়। তৃতীয় ওভারে সাদমান ইসলামও তাসকিনের শিকারে পরিণত হলে ১৯ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় চট্টগ্রাম। মিডল অর্ডারে নাঈম শেখ ও হাসান নাওয়াজ কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

সাইফউদ্দিনের ৪ উইকেট ও ঢাকার দাপট

চট্টগ্রামের ব্যাটিং ইনিংসের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। অসাধারণ বোলিং স্পেলে তিনি একাই শিকার করেন ৪ উইকেট। তাসকিন আহমেদ ৩টি উইকেট নিয়ে চট্টগ্রামের টপ অর্ডারকে গুঁড়িয়ে দেন। শেষ দিকে আমের জামাল ২৬ বলে ৪২ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেললেও তা কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। ১৯.৪ ওভারে ১২৮ রানেই গুটিয়ে যায় চট্টগ্রামের ইনিংস।

সান্ত্বনার জয় ও বিপিএল মিশন শেষ

এই জয়ের ফলে বিপিএলের এবারের আসরে ঢাকা ক্যাপিটালস তাদের যাত্রা শেষ করল একটি আত্মবিশ্বাস জাগানিয়া পারফরম্যান্স দিয়ে। যদিও তারা টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে যেতে ব্যর্থ হয়েছে, তবে শেষ ম্যাচে সাইফ হাসানের ফর্মে ফেরা এবং বোলারদের সম্মিলিত আক্রমণ দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের জন্য এই হার প্লে-অফের আগে এক বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

Tags: match report saif hassan taskin ahmed chittagong royals dhaka capitals cricket update bpl 2026 mirpur stadium saifuddin consolation win