বর্ণাঢ্য জীবন ও সামরিক পেশা জিয়াউর রহমান তাঁর বাবা মনসুর রহমানের কর্মস্থল বগুড়া, কলকাতা ও করাচিতে শৈশব-কৈশোর ও শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করেন। ১৯৫৫ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। অসাধারণ দেশপ্রেমিক, অসম সাহসী, সততা-নিষ্ঠা ও সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের প্রতীক জিয়াউর রহমান ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধে খেমকারান সেক্টরে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করেন। তিনি বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যে পরিচিত করিয়েছেন।
স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা গণমানুষের কাছে জিয়াউর রহমান মহান স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে সমাদৃত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। যুদ্ধ শেষে তিনি আবার পেশাদার সৈনিক জীবনে ফিরে যান এবং মুক্তিযুদ্ধের একটি সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন।
বিএনপি প্রতিষ্ঠা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন স্বাধীনতা-উত্তরকালে যখন মানুষের বাক-ব্যক্তি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল, সেই মহাসংকটকালে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সৈনিক-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে শহীদ জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে আসেন। সময়ের প্রয়োজনেই তিনি ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠা করেন বিএনপি। ক্ষমতায় এসে তিনি অর্থনৈতিক, সামাজিক ন্যায়বিচার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক জোট 'সার্ক' গঠন করেন।
শহীদ জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও কর্মসূচি ১৯৮১ সালের ৩০ মে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে শাহাদাতবরণ করেন এই দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক। রাজধানী শেরেবাংলা নগরে তাঁকে সমাহিত করা হয়। তাঁর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বাণীতে বলেন, শহীদ জিয়া ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা রাষ্ট্রনায়ক।
দলীয় কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—আজ সোমবার বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ। আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স-বাংলাদেশের মাল্টিপারপাস মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া, সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোয় পতাকা উত্তোলন এবং স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।