নতুন চরিত্রে মালবিকার চ্যালেঞ্জ
‘বিয়ন্ড দ্য ক্লাউডস’, ‘মাস্টার’, ‘মারান’–এর মতো ছবিতে গভীর ও গুরুগম্ভীর চরিত্রে অভিনয় করার পর এবার ‘দ্য রাজাসাব’-এ একেবারেই ভিন্ন রূপে এসেছেন মালবিকা। তিনি বলেন, "আমার চরিত্র ভৈরবীর করার মতো অনেক কিছু ছিল। বড় তারকার ছবিতে অনেক সময় নারী চরিত্রের অ্যাকশন করার সুযোগ থাকে না। এখানে আমি নিজেই অ্যাকশন করেছি।"
বড় পর্দার বাণিজ্যিক ছবির জন্য প্রস্তুতির কথা বলতে গিয়ে মালবিকা জানান, তিনি জানতেন এটি পুরোপুরি বড় পর্দার জন্য তৈরি ছবি। তিনি বলেন, “দর্শকের কথা মাথায় রেখেই অভিনয়ের ধরন ঠিক করেছি। কিছু দৃশ্য ধীর, কিছু দৃশ্য জমাট—এই ভাবনাটা মাথায় ছিল।” অ্যাকশন দৃশ্যের জন্য তাঁকে প্রায় ১০ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণও নিতে হয়েছিল। তাঁর কথায়, “লাফ দেওয়া, দড়ি ব্যবহার করে আঘাত করার মতো জটিল কৌশল ছিল। তাই আলাদা করে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে।”
প্রভাসের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা
দক্ষিণী সুপারস্টার প্রভাসের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাকে 'একেবারে ভিন্ন' বলে উল্লেখ করেছেন মালবিকা। তিনি বলেন, “ছবিতে প্রভাসকে অন্যভাবে দেখা গেছে। তাঁকে আমরা সাধারণত গম্ভীর চরিত্রে দেখি। এখানে তিনি হাস্যরস করেছেন।” প্রভাসের পর্দা–উপস্থিতি প্রসঙ্গে মালবিকার মন্তব্য, “ওঁর উপস্থিতি অসম্ভব শক্তিশালী। কাছ থেকে ওঁর তারকাখ্যাতি দেখা সত্যিই বিদ্যুতের মতো অনুভূতি।”
অভিনয় জীবনের দর্শন ও ব্যক্তিগত জীবন
বিভিন্ন ভাষা ও ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর অভিনয়যাত্রাকে সমৃদ্ধ করেছে বলে মনে করেন মালবিকা। তিনি বলেন, “নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি। মালয়ালম ছবিতে মোহনলালের সঙ্গে কাজ করা যেমন স্বপ্নপূরণ, তেমনি প্রভাসের সঙ্গে কাজ করা একেবারে আলাদা অভিজ্ঞতা।” তিনি আরও জানান, এখন বিভিন্ন ভাষার ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সীমারেখা অনেকটাই মুছে গেছে। “ভালো ছবি হলে দর্শক নিজেরাই খুঁজে নেন,”—বলেন তিনি।
শোবিজের চাপ ও সমালোচনা সামলানোর প্রসঙ্গে মালবিকা বলেন, “এই পেশায় সবাই সবকিছু নিয়ে মন্তব্য করে। চেহারা থেকে শুরু করে হাঁটার ভঙ্গি—কিছুই বাদ যায় না।” শুরুর দিকে বিষয়টি কঠিন মনে হলেও, ধীরে ধীরে তিনি শিখেছেন কোন মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁর ভাষায়, “কাজের বাইরে আমার নিজের ছোট একটা জগৎ আছে। সেখানে পরিবার আর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু।” ভ্রমণ ও আলোকচিত্রচর্চা—বিশেষ করে বন্য প্রাণীর ছবি তোলা—তাঁকে মানসিকভাবে সতেজ রাখে বলেও জানান মালবিকা।
ফিটনেস ও ফ্যাশন
ফিটনেস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত। তাই শরীরচর্চা আমার কাছে স্বাভাবিক।” একটি ছবির জন্য প্রাচীন তামিল মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন তিনি, যা এখন তাঁর নিয়মিত অনুশীলনের অংশ। ফ্যাশনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো গণ্ডিতে নিজেকে বাঁধতে চান না মালবিকা। এ বিষয়ে তিনি তাঁর মায়ের কাছ থেকেই সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত।
‘দ্য রাজাসাব’ নিয়ে প্রত্যাশা
সবশেষে ‘দ্য রাজাসাব’ নিয়ে দর্শকের কাছে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে মালবিকা বলেন, “এটা পুরোপুরি দর্শকনির্ভর ছবি। আমার চরিত্র ভৈরবী শক্ত, কিন্তু মাটির সঙ্গে মিশে থাকা এক নারী।” চরিত্রটির সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পাওয়ার কথাও জানান তিনি। “সে ভালোবাসার মানুষের জন্য লড়াই করে, আবার নিজের আবেগ প্রকাশ করতেও জানে। আশা করি দর্শক ছবিটি উপভোগ করছেন।”