• জাতীয়
  • চূড়ান্ত লড়াইয়ের পথে ৪১৬ প্রার্থী: আপিল শুনানিতে স্বস্তি ও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা

চূড়ান্ত লড়াইয়ের পথে ৪১৬ প্রার্থী: আপিল শুনানিতে স্বস্তি ও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
চূড়ান্ত লড়াইয়ের পথে ৪১৬ প্রার্থী: আপিল শুনানিতে স্বস্তি ও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা

৯ দিনের ম্যারাথন শুনানি শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল নির্বাচন কমিশন; বড় দলগুলোর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার হিড়িক থাকলেও বাদ পড়লেন বিএনপির দুই হাই-প্রোফাইল নেতা।

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া নিয়ে চলল স্নায়ুচাপের লড়াই। গত ৯ দিন ধরে চলা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ম্যারাথন আপিল শুনানিতে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ৪১৬ জন প্রার্থী। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে তারা নিজেদের প্রার্থিতা বৈধ করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এই আইনি লড়াইয়ের শেষ দিনেও ছিল নাটকীয়তা—বিপরীতমুখী ভাগ্যের কবলে পড়েছেন প্রভাবশালী রাজনীতিকরা।

ইসির ম্যারাথন শুনানি ও সিইসি’র পক্ষপাতহীনতার দাবি

নির্বাচন ভবনে টানা ৯ দিনের শুনানি শেষে গতকাল রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে তার অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করেন যে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় ইসি কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করেনি। সিইসি বলেন, “আমরা প্রতিটি আপিল অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করেছি। বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের বিষয়টি শিথিল করে আমরা একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ক্ষেত্র তৈরি করতে চেয়েছি।”

শুনানি চলাকালীন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এক আক্ষেপের সুরে বলেন, “আইন আমাদের সীমাবদ্ধ করে রেখেছে। অনেক ঋণখেলাপি (Loan Defaulter) প্রার্থীকে কেবল আইনের ফাঁকফোকর ও আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে ছাড় দিতে হয়েছে, যা নৈতিকভাবে আমাদের জন্য ছিল কষ্টকর।”

বিএনপি ও বড় দলগুলোর প্রার্থিতা বাতিলের খতিয়ান

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, মোট ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল থেকে ২ হাজার ৯১টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেছিলেন ৪৭৮ জন। প্রাথমিক বাছাই শেষে ৭২৩টি মনোনয়ন বাতিল হলেও আপিলের মাধ্যমে ৪১৬ জন ফিরে আসায় নির্বাচনের মাঠে সমীকরণ নতুন করে সাজাতে হচ্ছে।

দলগত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৩৩১ জন প্রার্থীর মধ্যে অনেকেরই প্রাথমিক আবেদন বাতিল হয়েছিল দলীয় প্রত্যয়ন না থাকায়। একইভাবে জাতীয় পার্টি (জাপা), জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরাও বড় সংখ্যক বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রে বাতিলের হার ছিল সবচাইতে বেশি—২২৪ জনের মধ্যে ৫৭ জনের আবেদন বাতিল করা হয়েছিল।

নাটকীয়তায় মোড়া হাই-প্রোফাইল প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ

আপিল শুনানির শেষ দিনে সবচাইতে বেশি নজর ছিল বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের ওপর। চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির সারোয়ার আলমগীর এবং কুমিল্লা-১০ আসনের আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছে ইসি। সারোয়ার আলমগীরের ক্ষেত্রে ‘Loan Default’ বা ঋণখেলাপির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে, আবদুল গফুর ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের (Double Citizenship) অভিযোগ উঠলেও তিনি শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন।

তবে স্বস্তির খবর এসেছে আব্দুল আউয়াল মিন্টুর শিবিরে। ফেনী-৩ আসনের এই প্রভাবশালী বিএনপি প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, তিনি সময়মতো নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন ও প্রয়োজনীয় ফি জমা দেওয়ায় তার প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতাও বহাল রয়েছে, যা নির্বাচনে এক অন্যরকম প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি: প্রচার শুরু ২২ জানুয়ারি

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার (Withdrawal) করতে পারবেন। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এরপরই শুরু হবে ভোটের আসল লড়াই। ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনি প্রচারণা (Election Campaign) শুরু করতে পারবেন, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশজুড়ে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এখন দেখার বিষয়, আইনি লড়াই পেরিয়ে আসা এই প্রার্থীরা ভোটের লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের মন জয় করতে কতটা সফল হন।

Tags: election commission candidate list loan defaulter bd election bnp candidates jp candidates ec appeal high profile court judgment voting day