আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ডামাডোল শুরু হতে না হতেই বিশ্ব ক্রিকেটে বইতে শুরু করেছে উত্তাল হাওয়া। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্দা ওঠার কথা থাকলেও টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বড়সড় এক ধাক্কা খেল আয়োজক দেশ ভারত ও আইসিসি। ভারতের মাটিতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানো বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সমর্থনে পিসিবির কঠোর অবস্থান
বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অচলাবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থানকে ‘যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছে পাকিস্তান। পিসিবি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তান দল তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবছে। পিসিবির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশের জন্য যদি ‘Security Protocol’ বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে পাকিস্তানও তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পুনর্বিবেচনা করবে। পিসিবি ইতিমধ্যে টিম ম্যানেজমেন্টকে একটি ‘Contingency Plan’ বা বিকল্প পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে, যাতে বাংলাদেশ অংশ না নিলে পাকিস্তানও নিজেদের সরিয়ে নিতে পারে।
সংকটের মূলে নিরাপত্তা ও আইপিএল বিতর্ক
ঘটনার সূত্রপাত কট্টরপন্থীদের বিক্ষোভের জেরে আইপিএল থেকে টাইগার পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর থেকে। এই ঘটনার পর ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের মাটিতে বৈরী পরিবেশে খেলা বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ নয়। এর পরিবর্তে বিসিবি শ্রীলঙ্কা বা ভারতের বাইরের অন্য কোনো ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনের জন্য আইসিসিকে প্রস্তাব দিয়েছে। এই জটিলতা নিরসনে সম্প্রতি আইসিসির একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করলেও কোনো ইতিবাচক সমাধান মেলেনি।
আইসিসি ও টুর্নামেন্টের ‘Market Value’ নিয়ে শঙ্কা
বিশ্বের দুই প্রধান ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ—বাংলাদেশ ও পাকিস্তান—একই সঙ্গে বিশ্বকাপ থেকে পিছিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ায় বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে আইসিসি। বিশেষ করে এশিয়ার বাজারে টুর্নামেন্টের ‘Market Value’ বা বাজারমূল্য এবং ভিউয়ারশিপে মারাত্মক ধস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে কয়েক দফা চিঠি চালাচালি হলেও ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় ‘Strategic Planning’ বা কৌশলগত পরিকল্পনায় হিমশিম খাচ্ছে আয়োজক দেশ ভারত।
২১ জানুয়ারির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে ক্রিকেট বিশ্ব
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ যাত্রার ভবিষ্যৎ এবং টুর্নামেন্টের ভাগ্য নির্ধারণে আগামী ২১ জানুয়ারি হতে যাচ্ছে এক মহাগুরুত্বপূর্ণ দিন। ওই দিন বিসিবি তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে। পিসিবিও সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পিসিবির এই নজিরবিহীন সংহতি ক্রিকেট বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এখন দেখার বিষয়, আইসিসি কি কোনো মধ্যস্থতায় পৌঁছাতে পারে নাকি দুই প্রধান শক্তির অনুপস্থিতিতেই অনুষ্ঠিত হবে এই মেগা ইভেন্ট। এই টানাপোড়েনে শুধু খেলোয়াড়দের প্রস্তুতিই ব্যাহত হচ্ছে না, বরং কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের প্রত্যাশাও এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।