• খেলা
  • নিরাপত্তার কারণেই কাচের রুমে সৈকত: ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজে অনফিল্ডে দেখা যায়নি বাংলাদেশি আম্পায়ারকে

নিরাপত্তার কারণেই কাচের রুমে সৈকত: ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজে অনফিল্ডে দেখা যায়নি বাংলাদেশি আম্পায়ারকে

আইসিসির এলিট প্যানেলভুক্ত আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত ভারত-নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজে তিনটি ম্যাচেই টিভি আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন, যা প্রথাগত ধারার বাইরে। চলমান নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের।

খেলা ১ মিনিট পড়া
নিরাপত্তার কারণেই কাচের রুমে সৈকত: ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজে অনফিল্ডে দেখা যায়নি বাংলাদেশি আম্পায়ারকে

আইসিসির এলিট প্যানেলভুক্ত আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত ভারত-নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজে আম্পায়ারিং করতে গিয়ে প্রচলিত ধারা ভেঙেছেন। তিন ম্যাচের একটিতেও তাকে অনফিল্ড আম্পায়ারের ভূমিকায় দেখা যায়নি; বরং প্রতিটি ম্যাচেই তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন 'কাচের রুম' অর্থাৎ টিভি আম্পায়ারের চেয়ারে বসে। ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান নিরাপত্তাজনিত উত্তেজনার কারণেই অভিজ্ঞ এই আম্পায়ারকে অনফিল্ডে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

আইসিসির এলিট প্যানেলভুক্ত আম্পায়ার হিসেবে শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতের ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজে অংশগ্রহণ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনি যেভাবে সিরিজটি শেষ করেছেন, তা ক্রিকেট মহলে জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের।

অনফিল্ড আম্পায়ারিংয়ে ব্যতিক্রম ভারত সিরিজের আগে আম্পায়ার হিসেবে সৈকত ১১৮টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচের দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে ৭২টিতেই তিনি ছিলেন অনফিল্ডের দায়িত্বে, আর বাকি ৪৬টিতে ছিলেন টিভি আম্পায়ারের ভূমিকায়। কিন্তু সদ্য শেষ হওয়া ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজের তিনটি ম্যাচেই তাকে দেখা গেছে কেবল টেলিভিশন আম্পায়ারের চেয়ারে। আইসিসির বর্তমান নিয়মে তিন ম্যাচের সিরিজে একজন এলিট প্যানেলভুক্ত আম্পায়ারের কমপক্ষে একটি ম্যাচ অনফিল্ডে থাকার কথা। এই সিরিজে সৈকতের সঙ্গে অন্য নিরপেক্ষ আম্পায়ার ছিলেন ইংল্যান্ডের রিচার্ড ইলিংওর্থ, যিনি প্রতিটি ম্যাচেই অনফিল্ডে দায়িত্ব পালন করেন।

নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বিসিবির অবস্থান আইসিসি এই ব্যতিক্রমের কোনো ব্যাখ্যা না দিলেও, অনেকেরই ধারণা এর মূল কারণ নিরাপত্তাজনিত। ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বিসিবি বর্তমানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বিকল্প ভেন্যুর ব্যাপারে আইসিসির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সুখবর মেলেনি, উল্টো বাংলাদেশকে ভারতের মাটিতেই খেলার জন্য আইসিসি চাপ সৃষ্টি করছে বলে জানা যায়।

ভেন্যু এবং সিদ্ধান্ত ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজের ম্যাচগুলো তিনটি ভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয়: গুজরাটের ভদোদরা ও রাজকোট এবং মধ্যপ্রদেশের ইনদোর। কিন্তু কোনো ম্যাচেই সৈকতকে অনফিল্ডে দেখা যায়নি। বাংলাদেশি হওয়ায় এবং ভারতে চলমান নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিনা—সেই প্রশ্নই এখন ক্রিকেট মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।

ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন অপেক্ষা করছেন, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার ভবিষ্যৎ কী হতে পারে। একই সাথে, একজন অভিজ্ঞ এলিট আম্পায়ারকে কেন তার স্বাভাবিক ভূমিকা থেকে বিরত রাখা হলো, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

Tags: bangladesh cricket bcb cricket news security concern umpire sharfuddoula ibne shahid saikat india-new zealand series icc elite panel