ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ কমেছে কেন?
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতীয় পাসপোর্টধারীরা ৫৭টি দেশে ভিসা ছাড়া যেতে পারতেন। তবে ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা কমে ৫৫-তে এসে দাঁড়িয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো, ইরান ও বলিভিয়া—এই দুটি দেশ ভারতীয় নাগরিকদের জন্য তাদের প্রবেশনীতিতে পরিবর্তন এনেছে।
ইরানের সিদ্ধান্তের কারণ ও প্রভাব
২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভিসামুক্ত প্রবেশ ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কিছু ভারতীয় নাগরিককে প্রতারণার মাধ্যমে ইরানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কাজ বা অন্য দেশে যাওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সেখানে পৌঁছানোর পর অনেককে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করা হয়। এই নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ইরান ২২ নভেম্বর ২০২৫ থেকে সাধারণ ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশ স্থগিত করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন ইরানে ভ্রমণ বা ট্রানজিটের জন্য ভারতীয় নাগরিকদের আগেভাগেই ভিসা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভারতীয়দের ইরানের মাধ্যমে ভিসামুক্ত যাত্রার প্রলোভন দেখানো এজেন্টদের থেকে দূরে থাকতে সতর্ক করা হয়েছে।
বলিভিয়ার নীতি পরিবর্তন
২০২৬ সাল থেকে ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের বলিভিয়া যেতে হলে ই-ভিসা (e-visa) নিতে হবে। ই-ভিসার ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড এবং ফি পরিশোধ করতে হয়। অনুমোদিত ভিসা ডিজিটালভাবে ইস্যু করা হলেও, হেনলি পাসপোর্ট সূচকে ই-ভিসাকেও 'ভিসা প্রয়োজন' হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ ভ্রমণের আগে অনুমোদন নিতে হয়।
২০২৫ সালে বলিভিয়া ভারতীয়দের জন্য 'ভিসা অন অ্যারাইভাল' (Visa on Arrival) সুবিধা দিত। এই সুবিধায় আগাম কোনো অনুমোদন ছাড়াই বিমানবন্দরে ফরম পূরণ ও ফি দিয়ে ভিসা পাওয়া যেত। এই সুবিধা ভিসামুক্ত ভ্রমণের মতোই সহজ হওয়ায় হেনলি সূচকে এটি উচ্চ স্কোর পেত।
হেনলি সূচকে ই-ভিসার স্থান
ভিসামুক্ত ভ্রমণ বলতে স্বল্প সময়ের জন্য আগাম ভিসা ছাড়াই কোনো দেশে প্রবেশের সুযোগকে বোঝানো হয়। এটি সাধারণত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা পর্যটন নীতির আওতায় দেওয়া হয়। তবে এতে অবস্থানকাল, অর্থের প্রমাণ ও বৈধ ভ্রমণ নথির মতো শর্ত থাকতে পারে। ইরান ও বলিভিয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ফলে ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের সহজ প্রবেশযোগ্য দেশের সংখ্যা কমে ৫৫টিতে দাঁড়িয়েছে। র্যাঙ্কিংয়ে ভারত উন্নত হলেও, এই দুই দেশে ভ্রমণের জন্য এখন আগাম প্রস্তুতি ও ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা আবশ্যক।