• রাজনীতি
  • নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনে BNP, জামায়াত, NCP সহ ৭৩ প্রার্থীকে শোকজ: ECC-র কঠোরতা নিয়ে প্রশ্ন

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনে BNP, জামায়াত, NCP সহ ৭৩ প্রার্থীকে শোকজ: ECC-র কঠোরতা নিয়ে প্রশ্ন

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনে BNP, জামায়াত, NCP সহ ৭৩ প্রার্থীকে শোকজ: ECC-র কঠোরতা নিয়ে প্রশ্ন

প্রচার শুরুর আগেই সারাদেশে বিধি ভঙ্গ, জরিমানা সীমিত; NCP-র নেতা শোকজকে 'নিয়মবহির্ভূত' বলে প্রত্যাহারের দাবি

**** নির্বাচন শুরুর আগেই বিধি ভঙ্গ****

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা (Election Code of Conduct) মেনে চলার অঙ্গীকার করলেও অনেকেই তা রক্ষা করছেন না। ভোট গ্রহণের তিন সপ্তাহ আগে প্রচার শুরু করার নিয়ম থাকলেও, এর আগেই বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) সহ প্রায় সব দলের প্রার্থীরাই বিধি ভঙ্গ করে প্রচারে নেমে পড়েছেন।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের পরিসংখ্যান: শোকজ ও দলভিত্তিক তালিকা

প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা ৩৯টি জেলার তথ্য সংগ্রহ করে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ২৭ জেলায় অন্তত ৭৩ জনকে শোকজ (Show Cause) করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শোকজ নোটিশ দেওয়া ও সতর্ক করার মধ্যেই ব্যবস্থা সীমিত রয়েছে।

রাজনৈতিক দল/পক্ষ শোকজ প্রাপ্ত প্রার্থীর সংখ্যা বিএনপি ৩৫ জন জামায়াতে ইসলামী ১৮ জন জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) ৪ জন ইসলামী আন্দোলন ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী ৫ জন অন্যান্য দল ৮ জন (জাতীয় পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ, এবি পার্টি, লেবার পার্টি ইত্যাদি)

জরিমানা: আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে মাদারীপুরে তিনটি ঘটনায় তিন প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা এবং ফেনীর তিনটি আসনে ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আইনি ব্যবস্থা ও শাস্তির বিধান

মাঠের তদারকি: ভোটের মাঠে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলায় দুজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (Executive Magistrate) নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া আসনভিত্তিক নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি (Election Inquiry Committee) মাঠে কাজ করছে।

শাস্তি: কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান আছে। কোনো দল বিধিমালা লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যায়। এছাড়া প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতাও আছে নির্বাচন কমিশনের (EC)।

নেতাদের প্রতিক্রিয়া: EC-র এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন

আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে শোকজ নোটিশ পেয়ে অনেক নেতা EC-র এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন:

এনসিপি: ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে 'দেশ সংস্কারের গণভোট, হ্যাঁ–এর পক্ষে থাকুন’ স্লোগান–সংবলিত বিলবোর্ড টানানোয় শোকজ করা হয়। এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এই শোকজকে 'নিয়মবহির্ভূত' বলে আখ্যা দিয়ে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান।

স্বতন্ত্র প্রার্থী: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা রিটার্নিং কর্মকর্তার শোকজ ও সশরীরে উপস্থিত হওয়ার আদেশ দেওয়ার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বিশেষজ্ঞের মতামত: রাজনৈতিক দলের Sincerity জরুরি

সাবেক নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, নির্বাচনী আচরণবিধি কতটুকু মানা হচ্ছে, তা মূলত দেখা যাবে প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সদাচরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

Tags: election commission political party ncp bnp jamaat show cause notice election code of conduct fine code violation electoral law