নির্বাচনকে 'কঠিন পরীক্ষা' হিসেবে আখ্যা
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বক্তব্যে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি 'কঠিন পরীক্ষা' হিসেবে উল্লেখ করেন।
উদার গণতন্ত্র ও উগ্রপন্থার প্রসঙ্গ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে যে দেশ কি 'লিবারেল ডেমোক্রেসির' হাতে থাকবে, নাকি 'সমস্ত উগ্রপন্থী রাষ্ট্রবিরোধী লোকদের' মধ্যে থাকবে। তিনি দেশের মানুষকে অবশ্যই উদারপন্থী রাস্তা, গণতন্ত্রের পথ এবং মানুষের কল্যাণের পথ বেছে নিতে আহ্বান জানান।
বিএনপির বিজয় ও সংস্কারের রূপরেখা
বিএনপির মহাসচিব দাবি করেন, যদি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে তাঁর দল 'ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি' বা ভূমিধস বিজয় অর্জন করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসবে, যার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করে একটি নতুন বাংলাদেশ রাষ্ট্র নির্মাণ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, বিএনপি আন্দোলন চলাকালীনই রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিল। এর আগে খালেদা জিয়া ২০১৬ সালে 'ভিশন ২০৩০' দিয়েছিলেন এবং বর্তমানে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ৩২ দফা দিয়েছেন।
বিভ্রান্তি ও ধর্মের ব্যবহার নিয়ে মন্তব্য
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনকে ঘিরে দেশে একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার চলছে। তিনি বলেন, যারা অতীতে বাংলাদেশকে স্বীকার করেনি এবং স্বাধীনতায় বিশ্বাস রাখেনি, তারাই আজ ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে, যেমন দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে বলে প্রচার করছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, বিএনপি ধর্মে বিশ্বাসী এবং তাঁদের নেতা জিয়াউর রহমানই প্রথম সংবিধানে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' এবং 'আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থার' কথা সংযুক্ত করেছিলেন।
নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও প্রতিপক্ষের সমালোচনা
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র ২৩ দিন বাকি থাকা সত্ত্বেও অনেকের মধ্যে নির্বাচন হওয়া না-হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি আরও বলেন, যারা নির্বাচন বন্ধ করার কথা বলে, তাদের আসলে 'ভেতরে–ভেতরে তিনটা ভোটও নাই' এবং তারা শুধু 'বড় গলায় গলাবাজি' করছে। তিনি বলেন, জনগণ যদি বিএনপিকে গ্রহণ করে, তবে তারা ক্ষমতায় থাকবে, অন্যথায় বিরোধী দলেই থাকবে।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান প্রমুখ।