• আন্তর্জাতিক
  • ট্রাম্পের 'শান্তি পর্ষদে' পুতিনকে আমন্ত্রণ: লক্ষ্য বিশ্ব সংঘাত নিরসন ও গাজা পুনর্গঠন

ট্রাম্পের 'শান্তি পর্ষদে' পুতিনকে আমন্ত্রণ: লক্ষ্য বিশ্ব সংঘাত নিরসন ও গাজা পুনর্গঠন

রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ সমাপ্তির অনিশ্চয়তা এবং গাজার সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে ট্রাম্প এই পর্ষদ গঠন করেছেন। স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ১০০ কোটি ডলার অনুদানের শর্ত।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ট্রাম্পের 'শান্তি পর্ষদে' পুতিনকে আমন্ত্রণ: লক্ষ্য বিশ্ব সংঘাত নিরসন ও গাজা পুনর্গঠন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত 'বোর্ড অব পিস' বা শান্তি পর্ষদে যোগদানের আমন্ত্রণ পেয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই পর্ষদের মূল লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী সংঘাত নিরসন করা। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের গাজায় শাসনব্যবস্থা তদারকি ও পুনর্গঠন কার্যক্রমের বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অনিশ্চিত সমাপ্তির মধ্যেই পুতিনকে এই আমন্ত্রণ জানানো হলো।

ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদ ও পুতিনের প্রতিক্রিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার দাবি করলেও, যুদ্ধটি এখনো চলছে এবং শান্তি আলোচনার গতিও বর্তমানে শ্লথ। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ গত সোমবার সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন, "প্রেসিডেন্ট পুতিনও এই বোর্ড অব পিসে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন।" তবে ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রস্তাবের খুঁটিনাটি দিকগুলো রাশিয়া এখনো বোঝার চেষ্টা করছে বলে পেসকভ জানিয়েছেন। পুতিন এই পর্ষদে যোগ দিতে আগ্রহী কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

গাজায় শাসনব্যবস্থা ও পুনর্গঠন শান্তি পর্ষদের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো গাজায় চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের জাতিহত্যামূলক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মস্কো ইসরায়েলের দিক থেকে কিছুটা সরে এসেছে। পুতিন বর্তমানে ইরানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছেন এবং ক্রমবর্ধমান পশ্চিমা বিচ্ছিন্নতার মোকাবিলায় উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এই পরিস্থিতিতে গাজায় শাসনব্যবস্থা তদারকি ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে ট্রাম্পের এই পর্ষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যান্য আমন্ত্রিত দেশ পুতিন ছাড়াও ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে যোগদানের আমন্ত্রণ পেয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া ভারত, অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান, গ্রিস, সাইপ্রাস, কানাডা, প্যারাগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও আলবেনিয়ার মতো দেশগুলোও আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এবং ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি তো লাম ইতোমধ্যে এই পর্ষদে যোগ দিতে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

স্থায়ী সদস্যপদের শর্ত শান্তি পর্ষদের সনদ সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন এই পর্ষদে স্থায়ী সদস্যপদ পেতে আগ্রহী দেশকে ১০০ কোটি ডলার অনুদান দিতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকের সময় শান্তি পর্ষদের সদস্যদের আনুষ্ঠানিক তালিকা ঘোষণা করা হতে পারে।

Tags: middle east donald trump gaza russia ukraine war vladimir putin international relations russia usa peace board