সর্বোচ্চ নেতার অস্বাভাবিক স্বীকারোক্তি
ইরানে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভের সময় 'কয়েক হাজার' মানুষ নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (Ayatollah Ali Khamenei)। এর আগে যেসব বিক্ষোভ হয়েছে, সেগুলোর হতাহতের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করা থেকে তিনি সবসময় বিরত থেকেছেন। এই স্বীকারোক্তিকে বিশ্লেষকরা কিছুটা অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন। বিক্ষোভ চলাকালে নিহতদের অনেককে 'অমানবিক ও বর্বর উপায়ে' হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিক্ষোভের সূচনা: অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে সহিংস রূপ
গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে রাজধানী তেহরানের ব্যবসা ও বাণিজ্যিক এলাকা গ্র্যান্ড বাজারে অর্থনৈতিক অসন্তোষ (Economic Discontent) থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। এটি দ্রুত ছোট-বড় প্রায় সব শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে সহিংস হয়ে ওঠে।
সহিংসতার প্রমাণ: ইরানের চিকিৎসা পরীক্ষক কর্তৃপক্ষের প্রধান আব্বাস মাসজেদি আরানি বলেন, নিহত ব্যক্তিদের অনেককে খুব কাছ থেকে বা ছাদ থেকে বুকে ও মাথায় গুলি করা হয়েছে। মারাত্মকভাবে জখম করাই ছিল এভাবে গুলি করার উদ্দেশ্য।
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট: সরকার ৮ জানুয়ারি রাতে সারাদেশে ইন্টারনেট-সেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়। ফলে বিক্ষোভের ভিডিও ইরানের বাইরে তেমন একটা ছড়াতে পারেনি। প্রায় দুই সপ্তাহ পর গত রোববার থেকে ইন্টারনেট-সেবা ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করলেও অধিকাংশ মানুষ এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
খামেনির অভিযোগ: ট্রাম্প 'অপরাধী' ও আন্তর্জাতিক শত্রুদের ইন্ধন
খামেনি এই ব্যাপক সহিংসতার জন্য রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিদাতাদের দায়ী করেছেন।
ট্রাম্পকে 'অপরাধী' আখ্যা: খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump) সরাসরি 'অপরাধী' আখ্যা দিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তিনি দাবি করেন, 'আমেরিকার লক্ষ্য ইরানকে গিলে ফেলা।'
সরকারের ভাষ্য: ইরান সরকার এসব আন্দোলনকে 'দাঙ্গা' আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে, এগুলো আন্তর্জাতিক শত্রুদের মদদে সংঘটিত হচ্ছে। তারা সশস্ত্র ও প্রশিক্ষিত 'সন্ত্রাসীরা'কে হত্যার জন্য সরাসরি দায়ী করেছে।
মানবাধিকার সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অবস্থান
মানবাধিকার সংস্থার তথ্য: যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক HRANA-এর সর্বশেষ তথ্যমতে, তারা ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তারা আরও জানিয়েছে, বিক্ষোভকারী নিহতদের পরিবারের কাছ থেকে ইরানি কর্তৃপক্ষ 'বুলেট মানি' বা গুলির দাম চেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: ট্রাম্প প্রথমে ইরানের জনগণকে রাস্তা না ছাড়ার আহ্বান জানালেও পরে তিনি বলেন যে ইরান ৮০০-এর বেশি রাজনৈতিক বন্দীর পরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে, তাই তিনি ইরানের নেতৃত্বের প্রতি 'গভীর শ্রদ্ধা' প্রকাশ করেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরাসরি মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকলেও, দেশটির মন্ত্রীরা গুপ্তচর সক্রিয় থাকার ইঙ্গিত দেন।
বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা ঘোষণা করেছেন, যারা 'দাঙ্গায়' অংশ নিয়েছে, তাদের দ্রুত শাস্তি দেওয়া হবে এবং কোনো দয়া দেখানো হবে না।