সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় রেছনা বেগম (২৩) নামের এক নববধূর অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত ২ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয় খাজাঞ্চী ইউনিয়নের দ্বীপবন্দ বিলপাড় গ্রামের আবদুল মালিকের (৩৪) সঙ্গে। বিয়ের মাত্র ১৬ দিনের মাথায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল।
পরিবারের অভিযোগ ও মামলা প্রস্তুতি
নিহত রেছনা বেগমের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে তাঁকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁরা থানায় একটি হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরই মধ্যে পুলিশ নিহতের স্বামী আবদুল মালিককে সন্দেহভাজন হিসেবে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও পুলিশের ভাষ্য
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার বিকেলের দিকে স্বামীর বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হন রেছনা বেগম। প্রতিবেশীরা তাঁর চিৎকার শুনে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং দ্রুত সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে, সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্বামীর পরিবারের দাবি
অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া আবদুল মালিকের পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন সকালে আবদুল মালিক বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর বড় ভাইয়ের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য তিনি সিলেটের একটি ক্লিনিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরিবারের অন্য সদস্যরাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। ওই সময় ঘরে কেবল রেছনা ও আবদুল মালিকের আট বছর বয়সী এক ভাগনি ছিলেন বলে তারা দাবি করছে। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে রান্নাঘর থেকে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে রেছনকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন। রেছনার চাচা আবদুল সাত্তার এই দাবির বিপরীতে অভিযোগ করেছেন যে, শ্বশুরবাড়ির লোকজনই নির্যাতন করে রেছনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করতে পারে।
মামলার অগ্রগতি
বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান আবদুল মালিককে জেলহাজতে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রেছনার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পরিবারটির পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।