রেকর্ডভাঙা বরফের স্তূপ ও জরুরি অবস্থা ঘোষণা
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কামচাটকার বিভিন্ন শহরে বর্তমানে ১০ থেকে ৪০ ফুট পর্যন্ত বরফ জমেছে। কোনো কোনো এলাকায় বহুতল ভবনের চারতলা পর্যন্ত বরফের নিচে চাপা পড়েছে। ভারী তুষারের চাপ ও তুষারধসে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ায় গত ১৫ জানুয়ারি কামচাটকার প্রশাসনিক কেন্দ্র পেত্রোপাভলোভস্ক-কামচাটস্কিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন মেয়র ইয়েভগেনি বেলিয়ায়েভ। তিনি অভিযোগ করেন, সময়মতো ভবনের ছাদ থেকে বরফ না সরানোর কারণেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট
প্রচণ্ড তুষারপাতের ফলে ওই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বাতিল করা হয়েছে বহু আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট। পাশাপাশি, বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। স্কুল, অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মানুষজন কার্যত গৃহবন্দী হয়ে পড়েছেন এবং অনেকে ‘রিমোট ওয়ার্ক’ (Remote Work) বা দূর থেকে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
খাদ্য সংকট ও বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস
বরফে ঢাকা সড়কপথের কারণে দোকানগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। রুটি, দুধ ও ডিমের মতো খাদ্যসামগ্রী অনেক এলাকায় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ওখোৎস্ক সাগরে একাধিক নিম্নচাপ সৃষ্টির ফলেই এমন প্রবল বাতাস ও টানা তুষারপাত হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। কামচাটকা অঞ্চল সাধারণত তীব্র শীত ও আগ্নেয়গিরির জন্য পরিচিত হলেও এবারের তুষারপাত আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।